Dhaka 6:33 pm, Tuesday, 6 October 2026
সর্বশেষ
বসতি মেলায় স্বজন গ্রুপের স্টল পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী ঢামেকে কারাবন্দির মৃত্যু চ্যাটজিপিটির লেখায় অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক দিচ্ছে ওপেনএআই মালয়েশিয়ায় ‘যেমনে-তেমনে’ কর্মী পাঠানো যাবে না : প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে ডিএমপি ভূমিকম্প মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল ৯০ হাজার চলতি মাসেই জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারও চায় সিন্ডিকেট বলে যেন কোনো শব্দই না থাকে : খাদ্যমন্ত্রী ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড‌ ‌সমাজের প্রতি মেসেজ : বিচারক

রানা প্লাজা মামলায় যুক্তিতর্কের নতুন তারিখ ২৮ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:41:54 am, Tuesday, 6 October 2026
  • / 2 Time View

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে অবহেলার অভিযোগে করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন তারিখ আগামী ২৮ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য ছিল।

তবে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম নতুন এ দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা না করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রায়ের পর্যায় থেকে মামলাটি উত্তোলন করেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক।

অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন এবং এদিন আদালতে হাজিরা দেন। 

মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রথমে তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। পরে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার ভূমিকার বিষয়টি উঠে এলে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভবনটির ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়। ভবনটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত হলেও পরে সেখানে পাঁচটি গার্মেন্ট কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। পরে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ৮৪৪টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ২৯১টি অশনাক্ত মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

দুর্ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রানা প্লাজা মামলায় যুক্তিতর্কের নতুন তারিখ ২৮ অক্টোবর

Update Time : 11:41:54 am, Tuesday, 6 October 2026

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণে অবহেলার অভিযোগে করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের নতুন তারিখ আগামী ২৮ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলাটি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য ছিল।

তবে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক রফিকুল ইসলাম নতুন এ দিন ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণা না করে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রায়ের পর্যায় থেকে মামলাটি উত্তোলন করেন আদালত। একই সঙ্গে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অপর আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক।

অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন এবং এদিন আদালতে হাজিরা দেন। 

মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। পরে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১৪ সালের ১৫ জুন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রথমে তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। পরে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার ভূমিকার বিষয়টি উঠে এলে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ভবনটির ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমতি চাওয়া হয়। ভবনটি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত হলেও পরে সেখানে পাঁচটি গার্মেন্ট কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। পরে আটজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে ৮৪৪টি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ২৯১টি অশনাক্ত মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ১ হাজার ৫২৪ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৭৮ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

দুর্ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল বেনাপোল থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।