Dhaka 10:24 pm, Tuesday, 6 October 2026
সর্বশেষ
ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ নোয়াখালীতে খনন করা নতুন কূপে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা : ২২ বছর পর কারামুক্ত নুরুল আমিন মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ছাদে সৌরবিদ্যুৎ নীতিমালার সুপারিশ জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ধর্মের নামে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা চাই না : রাষ্ট্রপতি ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের একাদশে কারা আছেন, কোথায় দেখবেন হাজারো ছাত্র-শিক্ষকের মিছিলে উত্তাল ফ্রান্স অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পুলিশ সদরদপ্তরে মিডিয়া বিভাগের এআইজির দায়িত্বে কামারুম মুনিরা

প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:30:46 pm, Tuesday, 6 October 2026
  • / 6 Time View

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আপাতত আইনগত বাধা থাকছে না।

সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়টি স্থগিত থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে সাড়ে ১৩ হাজার শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় পরিবর্তন আনে সরকার। গত ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। এতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর পরিশিষ্ট-ঘ (ক)-এর ‘অভিজ্ঞতা ও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা’ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত বিধানে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত হিসেবে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়।

এর আগে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। 

এই সংশোধন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গাইবান্ধার ফলগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান মানিকসহ ৪৬ জন শিক্ষক। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এদিকে রুল বিচারাধীন থাকার মধ্যে ২৯ জানুয়ারির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ২৫ মার্চ নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৯ হাজার ৭০৮, কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনে ১১২ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ রয়েছে। 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনকারীরা সম্পূরক আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

পরে এসব রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে নীতিমালায় সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করা ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সংক্রান্ত বিধান অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। মঙ্গলবার আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তবে রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ৪৬টি পদ বাদে বাকি পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা নেই

Update Time : 01:30:46 pm, Tuesday, 6 October 2026

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আপাতত আইনগত বাধা থাকছে না।

সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়টি স্থগিত থাকবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এতে সাড়ে ১৩ হাজার শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়।

নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকার মধ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের যোগ্যতায় পরিবর্তন আনে সরকার। গত ১০ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করে। এতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর পরিশিষ্ট-ঘ (ক)-এর ‘অভিজ্ঞতা ও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা’ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত বিধানে বেসরকারি স্কুল-কলেজ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত হিসেবে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়।

এর আগে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হতো। 

এই সংশোধন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গাইবান্ধার ফলগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান মানিকসহ ৪৬ জন শিক্ষক। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

এদিকে রুল বিচারাধীন থাকার মধ্যে ২৯ জানুয়ারির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে ২৫ মার্চ নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্যপদের কথা উল্লেখ করা হয়।

এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৯ হাজার ৭০৮, কারিগরি অধিদপ্তরের অধীনে ১১২ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি পদ রয়েছে। 

নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনকারীরা সম্পূরক আবেদন করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

পরে এসব রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে নীতিমালায় সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করা ‘১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা’ সংক্রান্ত বিধান অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। মঙ্গলবার আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

তবে রিট আবেদনকারী ৪৬ জনের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব ৪৬টি পদ বাদে বাকি পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আইনগত কোনো বাধা থাকছে না।