Dhaka 7:59 pm, Monday, 5 October 2026
সর্বশেষ
মন্টেনেগ্রোতে বছরে ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে ৩১৬ চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার ১৩ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা টুর্নামেন্ট ১৬ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার : দুই বিমানকর্মী পাঁচ দিনের রিমান্ডে রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি ভারতীয় ২ নাগরিককে ‘গুলি করে’ বাংলাদেশে ঠেলে দিল বিএসএফ প্রেম ও অর্থের জেরে ছাত্রদল নেতা জিসানকে হত্যা : পুলিশ রাবিতে হামলা, চোখে কালো কাপড় বেঁধে ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:04:31 pm, Monday, 5 October 2026
  • / 8 Time View

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশ ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ দেশের সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

তুরস্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। তবে এর বাইরে পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামও রপ্তানি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বাড়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মতো সরবরাহের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই বাজারে আরো বড় পরিসরে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভাবনাটি কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনে জোর দিতে হবে। উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি। 

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। সেখানে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের অর্গানিক তুলা, আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র ও কাঁচামাল বাংলাদেশের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বর্তমান প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি

Update Time : 12:04:31 pm, Monday, 5 October 2026

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশ ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

অর্থাৎ দেশের সার্বিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 

তুরস্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। তবে এর বাইরে পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামও রপ্তানি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বাড়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মতো সরবরাহের সুবিধা কাজে লাগিয়ে এই বাজারে আরো বড় পরিসরে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভাবনাটি কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনে জোর দিতে হবে। উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি। 

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। সেখানে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের অর্গানিক তুলা, আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র ও কাঁচামাল বাংলাদেশের শিল্পকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বর্তমান প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তুরস্কে রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এই ধারা কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।