সংবিধান সংশোধনে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি
- Update Time : 01:48:51 pm, Sunday, 4 October 2026
- / 5 Time View
সংবিধান সংশোধনে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিসত্তা-নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি দাবি করেছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটির পঞ্চম বৈঠকে শ্রমজীবী মানুষ ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তা-নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, আন্না মিনজ ও মাধবী মারমা।
বৈঠকে উত্থাপিত প্রস্তাব ও পরে লিখিতভাবে দেওয়া সুপারিশ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে বলে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেন।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনার বাইরে কারো লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানো যাবে। বৈঠকে উত্থাপিত এবং লিখিতভাবে পাওয়া প্রস্তাবগুলো কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
বৈঠকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) দেওয়া লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের উৎপাদন, সেবা ও সামগ্রিক অর্থনীতির বিস্তৃত পরিসরে শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।
শিল্প-কারখানা, কৃষি, পরিবহন, বন্দর, সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের শ্রমেই অর্থনীতির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সচল থাকে। তাই শ্রমজীবী মানুষকে শুধু অর্থনীতির শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের একটি মৌলিক সামাজিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমজীবী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু তাদের অবদান ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের তুলনায় রাষ্ট্র ও সমাজের নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র থেকে তারা অনেকটাই দূরে থাকেন।
এ অবস্থায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা, নীতিনির্ধারণে প্রতিনিধিত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারি নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে স্কপ।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের পরিচয়, অধিকার, মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এসব জনগোষ্ঠীর মতামত কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রতিনিধি জন ক্রুশ উয়েল।
বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল সেগুলো পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।
পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও আইনজীবী, শিক্ষক ও শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।











