ভূমি মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন একজন, চাকরিতে যোগ দিতে এলেন আরেকজন
- Update Time : 12:10:13 pm, Sunday, 4 October 2026
- / 5 Time View
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে তার নামে সরকারি চাকরিতে যোগদানের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ের পর রবিবার (০৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ব্যক্তিকে আটকের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সাতটি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি পদে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার সব ধাপ শেষে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনুকূলে গত ১৩ আগস্ট নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। শর্ত অনুযায়ী গত ১ অক্টোবর সাত ক্যাটাগরিতে মোট ৩৪ জন প্রার্থী সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদান করেন। যোগদানের সময় প্রার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবি ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়।
তবে রবিবার যোগদানকারী প্রার্থীদের ছবি ও পরিচয় পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের সময় রোল নম্বর ১৭০০২৭০৭-এর প্রার্থী মো. মাইদুল ইসলাম, পিতা-মো. আব্দুল হাই, মাতা-মোসলেহা বেগম, গ্রাম-তেঁতুলিয়া, ডাকঘর-দুহুলী, উপজেলা-কালীগঞ্জ, জেলা-লালমনিরহাট-৫৫২০-এর পরিচয় নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে মন্ত্রণালয়ের যাচাইয়ে দেখা যায়, মৌখিক পরীক্ষার সময় ধারণ করা ছবির ব্যক্তির সঙ্গে ৪ অক্টোবর উপস্থিত ব্যক্তির শারীরিক ও চেহারাগত কোনো মিল নেই। পরে গত ১ অক্টোবর যোগদানকারী অপর ৩৩ জন প্রার্থীর সামনে তাকে উপস্থিত করা হলে কেউ তাকে মো. মাইদুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি। এমনকি উপস্থিত ওই ব্যক্তিও মো. মাইদুল ইসলাম কিংবা তার সঙ্গে যোগদানকারী অন্য কোনো প্রার্থীকে শনাক্ত করতে পারেননি।
এ ছাড়া মৌখিক পরীক্ষার সময় সংগৃহীত হাতের লেখার নমুনা ও ছবির সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তির হাতের লেখা ও ছবির তুলনামূলক যাচাইয়েও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, প্রকৃত প্রার্থী মো. মাইদুল ইসলামের পরিবর্তে অন্য একজন ব্যক্তি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে মাইদুল ইসলামের নামে চাকরিতে যোগদান করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের পরিচয় জালিয়াতি ও অনিয়ম অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিকে এসআই মো. আবুল কালামের মাধ্যমে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তার সঙ্গে অন্য কারো যোগসাজশ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










