Dhaka 8:11 pm, Sunday, 4 October 2026
সর্বশেষ
রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট-শপিংমল খোলা রাখার দাবি হঠাৎ স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ তাইওয়ানে পৌঁছাল প্রথম দুটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান গাকৃবিতে ২৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু সংবিধান সংশোধনে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী ৭ পদের ৫টিই শূন্য, এক অফিস সহায়কে চলছে শিক্ষা অফিস সীমান্তে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৯ ককটেল উদ্ধার পুঁজিবাজারের চেহারা এক বছরে বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন আহমদ রফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:12:35 pm, Sunday, 4 October 2026
  • / 1 Time View

আহমদ রফিকের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ভাস্মর বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক সব সময় নিজেকেই অতিক্রম করে গেছেন। বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িকতার রূপ তার মধ্যে মূর্ত হয়েছিল।

তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। 

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খামখেয়ালি সভা।

অনুষ্ঠানে আহমদ রফিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. ইসমাইল সাদী ও খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম।

আহমদ রফিকের ‘মাকে আমি কোনদিন’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ চিঠি’র অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ও চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক ব্যক্তিগত সম্পদে আস্থা রাখতেন না।

সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানায়ও বিশ্বাস করতেন না। তার স্মৃতিকে ধারণ করে এখন আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তিনি এ উদ্যোগকে স্বীকৃতিও দিয়েছিলেন। 

ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছাগুলোর একটি ছিল ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর স্মরণে তরুণদের উদ্যোগে একটি ফাউন্ডেশন বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা এবং তার সাধনার চর্চা চালিয়ে যাওয়া। এসব থেকেই আহমদ রফিকের স্বার্থহীন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

ইসমাইল সাদী বলেন, আহমদ রফিক কখনো নিজের কাজ বা অবদানের প্রচার করেননি। এ কারণে তার জীবনের অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে গেছে। তার কর্মময় জীবনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থ প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তার স্মৃতি ও কর্মকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে রয়েছে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে ‘আহমদ রফিক সংগ্রহ’ প্রতিষ্ঠা করে তার রচনা ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, ‘আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজন, ছয় মাস মেয়াদি ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ এবং রবীন্দ্রগবেষকদের জন্য ‘আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ চালুর উদ্যোগ।

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ছয় মাস মেয়াদি অধ্যয়নসভা চলতি নভেম্বরেই শুরু হবে। এ জন্য বর্তমানে সদস্য আহ্বান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, আহমদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার কর্মের চর্চা এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে খামখেয়ালী সভা কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনসহ লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও তার অনুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করেন আহমদ রফিক। নানা কারণে পরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তার গভীর দুঃখ ছিল।

তারুণ্যনির্ভর খামখেয়ালী সভার কর্মকাণ্ডে আহমদ রফিক খুশি ছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর খামখেয়ালি সভা তাকে প্রথম ‘রবীন্দ্রগুণী’ সম্মাননা দেয়। আমৃত্যু তিনি সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে আহমদ রফিক ছিলেন অন্যতম। ছাত্রজীবনে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করলেও আমৃত্যু দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। তিন শতাধিক গ্রন্থে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মননজগত তুলে ধরেছেন এই ভাষাসংগ্রামী ও গবেষক। আহমদ রফিক ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মারা যান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন আহমদ রফিক

Update Time : 01:12:35 pm, Sunday, 4 October 2026

আহমদ রফিকের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ভাস্মর বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভাষাসংগ্রামী ও রবীন্দ্রগবেষক আহমদ রফিক সব সময় নিজেকেই অতিক্রম করে গেছেন। বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িকতার রূপ তার মধ্যে মূর্ত হয়েছিল।

তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আইকন হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। 

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে খামখেয়ালি সভা।

অনুষ্ঠানে আহমদ রফিকের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী, আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. ইসমাইল সাদী ও খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম।

আহমদ রফিকের ‘মাকে আমি কোনদিন’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শেষ চিঠি’র অংশবিশেষ আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মঞ্জুয়ারা রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খামখেয়ালি সভা ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ও চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক ব্যক্তিগত সম্পদে আস্থা রাখতেন না।

সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানায়ও বিশ্বাস করতেন না। তার স্মৃতিকে ধারণ করে এখন আহমদ রফিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তিনি এ উদ্যোগকে স্বীকৃতিও দিয়েছিলেন। 

ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিকের শেষ ইচ্ছাগুলোর একটি ছিল ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁর স্মরণে তরুণদের উদ্যোগে একটি ফাউন্ডেশন বা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা এবং তার সাধনার চর্চা চালিয়ে যাওয়া। এসব থেকেই আহমদ রফিকের স্বার্থহীন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।

ইসমাইল সাদী বলেন, আহমদ রফিক কখনো নিজের কাজ বা অবদানের প্রচার করেননি। এ কারণে তার জীবনের অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে গেছে। তার কর্মময় জীবনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী গ্রন্থ প্রকাশের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহমদ রফিকের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীর স্মরণাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তার স্মৃতি ও কর্মকে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চারটি কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে রয়েছে খামখেয়ালী সভার রবীন্দ্র গ্রন্থাগারে ‘আহমদ রফিক সংগ্রহ’ প্রতিষ্ঠা করে তার রচনা ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, ‘আহমদ রফিক স্মারক বক্তৃতা’ আয়োজন, ছয় মাস মেয়াদি ‘ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক অধ্যয়নসভা’ এবং রবীন্দ্রগবেষকদের জন্য ‘আহমদ রফিক গবেষণা বৃত্তি’ চালুর উদ্যোগ।

খামখেয়ালী সভা ট্রাস্টের সভাপতি মাহমুদ হাশিম এসব কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ছয় মাস মেয়াদি অধ্যয়নসভা চলতি নভেম্বরেই শুরু হবে। এ জন্য বর্তমানে সদস্য আহ্বান করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চিত্রশিল্পী আবদুল মান্নান বলেন, আহমদ রফিকের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার কর্মের চর্চা এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে খামখেয়ালী সভা কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে আহমদ রফিক ফাউন্ডেশনসহ লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশক ও তার অনুরাগীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করেন আহমদ রফিক। নানা কারণে পরে কেন্দ্রটির কার্যক্রম আর চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তার গভীর দুঃখ ছিল।

তারুণ্যনির্ভর খামখেয়ালী সভার কর্মকাণ্ডে আহমদ রফিক খুশি ছিলেন। ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর খামখেয়ালি সভা তাকে প্রথম ‘রবীন্দ্রগুণী’ সম্মাননা দেয়। আমৃত্যু তিনি সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে আহমদ রফিক ছিলেন অন্যতম। ছাত্রজীবনে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করলেও আমৃত্যু দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। তিন শতাধিক গ্রন্থে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মননজগত তুলে ধরেছেন এই ভাষাসংগ্রামী ও গবেষক। আহমদ রফিক ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মারা যান।