গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ৭ দিনের রিমান্ডে
- Update Time : 12:26:57 pm, Thursday, 1 October 2026
- / 10 Time View
অসংলগ্ন তথ্য প্রদান, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার এবং সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত কর্মকর্তা সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার পাসপোর্ট প্রদর্শন করেন।
পরবর্তীতে পরীক্ষা করে তার পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ভারতীয় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখে ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশে তার একাধিকবার যাতায়াত এবং অবস্থান নিয়ে তিনি বারবার অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
গুপ্তচরবৃত্তি আইনের মামলার অভিযোগে বলা হয়, রবিউল ভারতের হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদে উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ১০/১২ বছর ধরে বাংলাদেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন।
তিনি ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি সংস্থার কাছে তথ্য পাচার করে আসছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংরক্ষিত এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ ছাড়া বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা এবং গুপ্তচরবৃত্তির প্রবল সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তাকে প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দুই দফায় মোট ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’ (গুপ্তচরবৃত্তি আইন)-এর আওতায় নিয়মিত মামলা করা হয়।








