বাকৃবিতে গাঁজা সেবনরত তিন কলেজছাত্রকে আটক
- Update Time : 12:22:38 pm, Thursday, 1 October 2026
- / 6 Time View
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে মাদক সেবনরত অবস্থায় তিন কলেজছাত্রকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ক্যাম্প পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরো একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি ফার্ম এলাকায় এক অভিযানে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
ক্যাম্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। তিনজনকে হাতেনাতে ধরলেও একজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আটক তিনজনের কাছ থেকে গাঁজাসহ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটক তিনজন ও পালাতে সক্ষম ব্যক্তি—সবাই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেবি) কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ সাইফুল হক বলেন, প্রক্টর স্যারের মাধ্যমে জানতে পারি ডেইরি ফার্মের একটি নির্জন জায়গায় কয়েকজন নিয়মিত গাঁজাসহ মাদক সেবন করে। এর আগেও অভিযান চালানো হলেও তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।
আজকে দুপুরের দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাদের চারজনকে দেখতে পাই। একজন ব্যাগ রেখে দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিনব পদ্ধতিতে মাদক সেবনের বিষয়ে তিনি বলেন, এরা এক বোতলে দুই ছিদ্র করে হুক্কার মতো করে মাদক সেবন করে। বোতলের নিচে ছিদ্র করে পাইপে মাদকের স্টিক ঢুকিয়ে পানি দিয়ে অর্ধেক বোতল ভর্তি করে।
পরে উপরের দিকে একটা ছিদ্র করে। চিপি বন্ধ করে উপরের ছিদ্র দিয়ে হুক্কার মতো করে টানে। অবাক করা বিষয় এরা মাত্র কলেজের শিক্ষার্থী। পরে আটক তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, ডেইরি ফার্ম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজকে ধরা ধরা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে। যে ব্যাগ রেখে পালিয়ে গেছে তার ব্যাগের মধ্যে মাদকের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। তিনি বলেন, তারা মাত্র কলেজে পড়াশোনা করছে। এদের অনেকের অভিভাবক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছে। বিষয়টি আসলেই হতাশাজনক।
প্রক্টর আরো বলেন, আটক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সামনে এ ধরনের কাজ না করার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের ডাকা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে লিখিতভাবে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা সন্তানদের নিয়মিত কাউন্সেলিং ও নজরদারিতে রাখেন।








