কাউন্সিলর একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল
- Update Time : 11:49:35 am, Thursday, 24 September 2026
- / 5 Time View
আট বছর আগে কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠনের শুনানি আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পক্ষে আজ প্রসিকিউশনের শুনানি করার কথা ছিল।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ না থাকায় শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন শুনানি হবে।’
গত ২৬ জুলাই এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে ১১ আসামির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
তাদের মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে দুইটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয়। হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলার সাত আসামি পলাতক। যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন, বৃহস্পতিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তারা হলেন- কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের সাবেক কম্পানি কমান্ডার রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কম্পানি কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দাবি, আসামি আবদুর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইন ও পরিকল্পনায় কাউন্সিলর একরামুল হককে হত্যা করা হয়। একরামুলকে হত্যার পর বিভিন্ন কৌশলে একরামুলের বেশ কিছু সম্পত্তি বদি আত্মসাৎ করে বলেও দাবি চিফ প্রসিকিউটরের।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল।
তিনি ১২ বছর উপজেলা যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ছিলেন। কথিত বন্দুকযুদ্ধের কিছু সময় আগে মেয়ের সঙ্গে একরামুলের কথোপকথনের একটি ফোনালাপের রেকর্ড হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে। সে সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) করা হয়।







