ফ্যাসিবাদীরা এমন জায়গা থেকে মদদ পাচ্ছে, যা ভয়াবহ : রিজভী
- Update Time : 03:14:05 pm, Thursday, 24 September 2026
- / 7 Time View
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, কোনোভাবে (ফ্যাসিবাদী শক্তির) পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না, কারো রক্ষা হবে না। কারণ এমন জায়গা থেকে তারা (ফ্যাসিবাদী শক্তি) মদদ পাচ্ছে বা দেওয়া হচ্ছে, যা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে টেলিফোন নম্বরে বলা হচ্ছে যে, অমুক জায়গা থেকে বোমা নিতে হবে এবং সেই বোমা নেওয়ার পর যখন এক্সপ্লোশন হবে, সেটার ছবি তোমরা তুলবে, সেই ছবি আমাদের কাছে পাঠাবে। তারপর তোমাদেরকে টাকা পেইড করে দেওয়া হবে। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস অনলাইন পড়ে দেখুন, সেখানে পাবেন।
তাহলে কি ভয়ংকর! জল্লাদরা চারিদিকে কিলবিল করছে, চারিদিকে যে তারা ভিড় করছে, এটা তো শুধু কথার কথা নয়, এটা অত্যন্ত সত্য কথা।
তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছর বহু কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশকে একটি দেশের ব্যাকইয়ার্ড বা বাড়ির পেছনের উঠানে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেটা হাতছাড়া হয়েছে, আমি আর কিছু বলতে চাই না। সুতরাং কিছু কিছু বিষয়ে ন্যূনতম একটা ঐক্যের ধারায় বা একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ধারাতে রাখতে হবে।
শুধু গণতন্ত্রের যে ধারা সেটাকে রক্ষা করা নয়, যদি সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঘটে গণতন্ত্র বাদই দিলাম, রাষ্ট্রই তো থাকবে না। তো এই রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে, আমাদেরকে কোনো না কোনো জায়গায় একটা যোগসূত্র রেখে কাজ করতে হবে। না হলে কোনোভাবে তাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ (সরকার ও বিরোধী দল) রক্ষা পাবেন না, কারো রক্ষা হবে না। কারণ এমন জায়গা থেকে তারা মদদ পাচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে, যেটা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার।
রিজভী আরো বলেন, ১১ দলীয় জোট লং মার্চ করছে।
আমরা বলিনি এ যে, কেন তারা এটা করবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি পালন করা ও কথা বলার অধিকার আছে। জোরালোভাবে সমালোচনা করার অধিকার আছে, সেটা পার্লামেন্টের ভেতর ও বাইরে। তারা দুটি লং মার্চ করলেন, কোথাও কোনো টু শব্দ হয়নি। যেটা শেখ হাসিনার আমলে ছিল অবিশ্বাস্য। কোনো রোডমার্চ, লং মার্চে এরকম হয়েছে যে পদে-পদে বাধা, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশের মাধ্যমে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যারা মহাসমাবেশে উপস্থিত হতে গেছেন, তাদের বাস আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বলেছি, নিজেরা সমস্ত জেলায় জেলায় খবর দিয়েছি যে, অপজিশনের লং মার্চ হচ্ছে, আমাদের নেতাকর্মীরা কোথাও কোনোভাবেই কেউ কোনো টু শব্দ করবে না এবং সেটাই মেইনটেইন করা হয়েছে। বিরোধী দল তো তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে; বলুক। সেটা তে কোনো অসুবিধা নেই।
বিএনপির এই নেতা বলেন, কিন্তু আমাদের আপত্তিটা অন্য একটি জায়গায়। গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তাই তো বলা না; যা বলবেন সত্য বলবেন। গ্যাস ও জ্বালানি তেল নিয়ে ক্রাইসিস হচ্ছে, যা বৈশ্বিকসংকট। সেগুলো আমরা বলছি কি কারণে এটা হচ্ছে। আমরা তথ্য-পরিসংখ্যান উপস্থাপন করছি, অপজিশনের দিক থেকেও তারা নানা ধরনের কথা বলছেন। এটা হতে পারে, অসুবিধা নেই। এক দফায় চলে যাব, সিদ্ধান্ত নিতে হবে কিভাবে পদত্যাগ করবেন দুই-একদিনের মধ্যে, এটাও ধরুন একটা মানা গেল যে, রাজনৈতিক বক্তৃতায় রেটরিক বা বাগাড়ম্বর হতে পারে। কিন্তু যখন তুই-তুকারি চলে আসে, এটা তো ফ্যাসিবাদের কালচার। কেউ পজিশনে থাক অপজিশনে থাক, তুই করে কথা বলা, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তুই-তুকারি করা, এটা তো সজীব ওয়াজেদ জয়ের কালচার। তিনি সন্তানতুল্য, দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে এভাবে সংবোধন করত। যেটা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষও অত্যন্ত বিরক্ত হতো। কঠোরভাবে সমালোচনা করত। তো সেটার পুনরাবৃত্তি হবে কেন? আমরা তখন বাধ্য হয়েছি, আমাদেরকে তখন কথা বলতেই হবে, এটার উত্তর দিতেই হবে। তবে সেই উত্তরটা আমরা কঠোর, কঠিন, কিন্তু মার্জিতভাবে বলেছি। তীব্র সমালোচনা করা যায়, সেখানেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করা যায়। সেটাই বলার চেষ্টা করেছি।








