পদ্মার পাড়ে মিলল বাইসাইকেল-জুতা, ৪৫ দিনেও সন্ধান নেই রাহাতের
- Update Time : 12:14:05 pm, Thursday, 24 September 2026
- / 6 Time View
বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল ১৫ বছর বয়সী এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাহাত। কথা ছিল, সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফিরবে।
কিন্তু সেই সন্ধ্যার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে বেশ দূরে পদ্মা নদীর পাড়ে পাওয়া যায় তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও একজোড়া জুতা। এরপর পেরিয়ে গেছে ৪৫ দিন। এখনো সন্ধান মেলেনি রাহাতের।
রাহাতকে স্বাভাবিকভাবে নিখোঁজ হওয়ার চেয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে তার পরিবার। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কৃষক মো. মুন্নুচ আলী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি জানান তিনি।
রাহাত পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাসিন্দা।
সে সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ৯ আগস্ট হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নুচ আলী বলেন, ৯ আগস্ট বিকেলে রাহাত বাইসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি।
প্রথমে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে রাহাতের ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও জুতা মানিকহাট ইউনিয়নের গুপিনপুর গোরস্তানসংলগ্ন মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে দূরের ওই স্থানে তার বাইসাইকেল ও জুতা পড়ে থাকা নিয়ে তখন থেকেই পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
মুন্নুচ আলীর দাবি, রাহাত নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে একটি সিএনজি ও কয়েকটি মোটরসাইকেল সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। এসব যানবাহনের সঙ্গে রাহাতের নিখোঁজ হওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মুন্নুচ আলী বলেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক। আমার একটাই দাবি—আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
রাহাত নিখোঁজের ঘটনায় ১০ আগস্ট সুজানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট তার বাবা অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
তবে মামলা হওয়ার পরও ৪৫ দিন ধরে রাহাতের কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ আরো বেড়েছে পরিবারের। ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কোনো তথ্য না পাওয়ায় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
রাহাতের বাবা বলেন, ‘৪৫ দিন ধরে আমরা জানি না আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না, কোথায় আছে। প্রতিদিন অপেক্ষা করছি—হয়তো আজ ছেলের কোনো খবর পাব। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলেকে খুঁজে বের করুন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।







