Dhaka 3:58 pm, Saturday, 10 October 2026

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে নারাজি, সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 11:51:23 am, Tuesday, 15 September 2026
  • / 26 Time View

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে গুলিবিদ্ধ পল্লিচিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানি শেষে মামলাটি অধিকতর ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতের কৌঁসুলি আব্দুল হাদি বেলাল জানান, তৎকালীন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, ডিআইজি আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার শাহজাহান আলী ও কোতোয়ালি থানার ওসি মোস্তাইম বিল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করে মামলাটি করা হয়।

আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, আসামিরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থাও (পিবিআই) পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। সার্বিক বিচার বিবেচনায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিচারক নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে ন্যস্ত করেন। 

একই সঙ্গে সিনিয়র আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও অনেক স্পর্শকাতর মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুলির ঘটনায় গুরুতর আহত রংপুর সিটি বাজার এলাকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী নিজের করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিজের চেম্বারে আহত আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় পুলিশ শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার পা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়।

বর্তমানে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কষ্ট করে হাঁটতে হয়। সবসময় তীব্র ব্যথা থাকে। এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।’

শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেতে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন জানিয়ে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এই পল্লিচিকিৎসক।

পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখানের পর সিআইডির পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের সামনে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাদী ও তার আইনজীবীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে নারাজি, সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ

Update Time : 11:51:23 am, Tuesday, 15 September 2026

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে গুলিবিদ্ধ পল্লিচিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুনানি শেষে মামলাটি অধিকতর ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতের কৌঁসুলি আব্দুল হাদি বেলাল জানান, তৎকালীন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, ডিআইজি আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার শাহজাহান আলী ও কোতোয়ালি থানার ওসি মোস্তাইম বিল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করে মামলাটি করা হয়।

আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, আসামিরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থাও (পিবিআই) পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

ফলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। সার্বিক বিচার বিবেচনায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিচারক নারাজি আবেদন গ্রহণ করে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে ন্যস্ত করেন। 

একই সঙ্গে সিনিয়র আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও অনেক স্পর্শকাতর মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গুলির ঘটনায় গুরুতর আহত রংপুর সিটি বাজার এলাকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী নিজের করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিজের চেম্বারে আহত আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় পুলিশ শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার পা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়।

বর্তমানে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কষ্ট করে হাঁটতে হয়। সবসময় তীব্র ব্যথা থাকে। এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।’

শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেতে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন জানিয়ে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এই পল্লিচিকিৎসক।

পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখানের পর সিআইডির পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের সামনে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাদী ও তার আইনজীবীরা।