Dhaka 4:00 pm, Saturday, 10 October 2026

মক্কা-মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না : প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 09:20:53 am, Saturday, 10 October 2026
  • / 3 Time View

পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগতে পারে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহের কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। 

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।

স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে উচ্চ পর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বাড়ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরব সফর করছেন। 

তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরেও বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট মোকাবেলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও সফরে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মক্কা-মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না : প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

Update Time : 09:20:53 am, Saturday, 10 October 2026

পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

একই সঙ্গে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা ও মদিনা যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগতে পারে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে মক্কা চুক্তির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহের কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট—পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। 

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এত দিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে।

স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিতে উচ্চ পর্যায়ের সফর ও যোগাযোগও বাড়ছে। সৌদি আরবের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরব সফর করছেন। 

তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরবের সঙ্গে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে বিনিয়োগ অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতেও সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এ সফরেও বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট মোকাবেলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও সফরে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।