মায়ের দাবি দাফন, বাবার চাওয়া চিতায় দাহ, পাঁচ দিন ধরে ফ্রিজে লাশ -নারায়ণগঞ্জ
- Update Time : 05:40:45 pm, Wednesday, 9 September 2026
- / 6 Time View
মায়ের দাবি, মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় ছেলে শুভ (বিল্লাল)-কে দাফন করতে হবে। অন্যদিকে, বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, ছেলে হিন্দু ধর্মে জন্ম, তাই তাকে চিতায় দাহ করতে চান তিনি।
দুই পক্ষের এমন দাবিতে পাঁচদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে পড়ে আছে শুভর মরদেহ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে শুভর লাশটি ফ্রিজিং গাড়িতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি মোহাম্মদ সাজিদুর রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় গুলিতে নিহত শুভর (৩০) মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিরোধ। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লাশবাহী একটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে সংরক্ষণ করা হচ্ছে মরদেহটি।
বিষয়টি গড়িয়েছে আদালতে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের পরই শুভর মরদেহ দাফন করা হবে, নাকি দাহ করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু।
সে অনুযায়ী তিনি ছেলের মরদেহ চিতায় দাহ করতে চান। তবে শুভর মা দাবি করছেন, তার ছেলে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন। ফলে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের তালাক হয়ে যায় ২০০৩ সালে।
এরপর শুভ (বিল্লাল), তার মা ও এক ভাই ও বোন মুসলমান হয়। শুভর ভাই ইব্রাহিম ও বোন সুমাইয়া। আবার স্ত্রী জ্যুথি মুসলমান ও তাদের সন্তান সুমাইয়া। শুভ এফিডেভিট বা হলফনামার মাধ্যমে মুসলমান হয়ে বিল্লাল নাম রাখেন। মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে মুসলিম পরিবারে বিয়ে করেন।
শুভর ভাই ইব্রাহিম বলেন, আমরা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হই এবং সুন্নতে খাতনা করি। পাশাপাশি একইসঙ্গে দুজন নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় রওজাতুস সালেহীন মাদরাসায় পড়াশোনা করি।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, শুভ হিন্দু না মুসলিম, এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়কে শুভকে (বিল্লাল) গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাকে ঘিরে ফেলে। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সর্বশেষ অগ্রগতি আসে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)। রিমান্ডে থাকা সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে একটি ঝোপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিন উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।