পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করেই যাচ্ছে ইসরায়েলি সেটেলাররা
- Update Time : 10:51:54 am, Thursday, 22 January 2026
- / 61 Time View
পশ্চিম তীরের রাস আইন আল-আউজা গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা ইসরায়েলি বসতিবাসীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ নিজ নিজ ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে মালপত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। ছবি: এপি
পশ্চিম তীরের রাশ এইন আল-আউজা গ্রামের শত শত ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ইসরায়েলি সেটলারদের আগ্রাসনের তীব্রতা বৃদ্ধির কারণে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন, যার ফলে পুরো গ্রামের সব মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
৪৫ বছর বয়সী নায়েফ ঘাওয়ানমেহ দু’বছর যাবৎ মানসিক যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারেন না। তিনি তার মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে বলেন, “রাতে ঘুমালে যদি সেটেলাররা ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, এই ভয়ে দু’বছর ঘুমাইনা। আমার জীবন এখন পুরোপুরি থেমে গেছে। আমাদের জীবন নিজ নিজ বাড়ীর মধ্যে গৃহবন্দিত্বে পরিণত হয়েছে, কারণ সেটেলাররা এখন বাড়ির ঠিক বাইরেই পশুপালন করে। ”
এই বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬৫০ জনের মধ্যে ৪৫০ জন গ্রামছাড়া হয়েছে। বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে। গবাদি পশুগুলো হয় চুরি করা হয়েছে, নতুবা বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এখন মাত্র ১৪টি পরিবার অবশিষ্ট, তাদের মধ্যে অনেকেরই শিশু রয়েছে এবং তাদের যাওয়ার অন্য কোনো ঠিকানা নেই।
ঘাওয়ানমেহ বলেন, “পূর্বপুরুষের ভূমির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু উত্তরাধিকার নয়, তার চেয়েও গভীর। নিজের ঘর আর গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়া ভীষণ কঠিন। কিন্তু আমাদের তা করতে বাধ্য করা হয়েছে।”
শিশুদের জন্য গান পরিবেশনের মতো কিছু ক্ষণিক স্বস্তির মুহূর্ত থাকলেও পশ্চিম তীরবাসীর জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ক্ষতির মানসিক যন্ত্রণা কাটেনি এখনো। ঘাওয়ানমেহ বলেন, “আমার জন্য যতই গান গাওয়া হোক, তাতে আমি সুখী হব না। আমি আসলে ভেঙে পড়েছি। দুই বছর ধরে সেটেলারদের নির্যাতন, কষ্ট আর সমস্যার মধ্যে দিন-রাত কাটাচ্ছি। আমি যথেষ্ট ক্লান্ত।”
পশ্চিম তীরজুড়ে সশস্ত্র সেটেলারদের তৈরি করা এসব ফাঁড়ি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণদের নিয়ে গঠিত এসব দল সরকারি সহায়তাও পাচ্ছে। তারা প্যালেস্টাইনিদের চারণভূমি দখল করছে এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার মানুষ জোরপূর্বক ঘরছাড়া হয়েছে।











