Dhaka 4:00 pm, Monday, 4 May 2026

ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি

সময়ের কাগজ ডেস্ক :
  • Update Time : 06:49:01 am, Monday, 4 May 2026
  • / 5 Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট ও শপিং মলগুলো রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। গতকাল রবিাবর (৩ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ অধিদপ্তরে আপনার সভাপতিত্বে বৈশ্বিক পরিস্থিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় আপনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। কিন্তু বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। অতঃপর ৫ এপ্রিল পুনরায় আপনার আহ্বানে আপনার সঙ্গে আপনার দপ্তরে সমিতির কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমাদেরকে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী আমরা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সারা দেশের মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো বন্ধ করে আসছি। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দেশের সংকটকালীন সময়ে আমরাই জ্বালানি সাশ্রয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু, অন্য কোন সেক্টরে তা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। বেচাকেনা নাই বললেই চলে। ব্যবসায়ীদের পিট দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে।মাননীয় মন্ত্রী, আপনি আশ্বস্ত করেছিলেন ঈদুল আজহার পূর্বে দোকান খোলা রাখার সময় বৃদ্ধি করা হবে। সেইসঙ্গে আশ্বস্ত করেছিলেন কোন জেলায় যাতে অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আমাদেরকে অবহিত করা হচ্ছে। একশ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নামে মেলার আয়োজন করে নিম্নমানের পণ্য সামগ্রী বিক্রি করছে। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাণিজ্য মেলার কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। উল্লেখ্য, ঈদুল আজহায় বেচাকেনা একটু ভাল হয়। তাই দোকান পাট খোলা রাখার সময় বৃদ্ধি করা হলে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রনে এসেছে। সুতরাং ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ মে হতে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো খোলা রাখার ঘোষণা প্রদানের জন্য আপনার সদয় নির্দেশনা কামনা করছি। চিঠিতে ঈদুল আযহার পর ৭ দিন মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি

Update Time : 06:49:01 am, Monday, 4 May 2026

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্রেতা–বিক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ মে থেকে মার্কেট ও শপিং মলগুলো রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। গতকাল রবিাবর (৩ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে সমিতির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল বিদ্যুৎ অধিদপ্তরে আপনার সভাপতিত্বে বৈশ্বিক পরিস্থিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলা শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় আপনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। কিন্তু বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। অতঃপর ৫ এপ্রিল পুনরায় আপনার আহ্বানে আপনার সঙ্গে আপনার দপ্তরে সমিতির কর্মকর্তাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমাদেরকে যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুযায়ী আমরা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সারা দেশের মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো বন্ধ করে আসছি। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দেশের সংকটকালীন সময়ে আমরাই জ্বালানি সাশ্রয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু, অন্য কোন সেক্টরে তা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। বেচাকেনা নাই বললেই চলে। ব্যবসায়ীদের পিট দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাদের মধ্যে অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পাচ্ছে।মাননীয় মন্ত্রী, আপনি আশ্বস্ত করেছিলেন ঈদুল আজহার পূর্বে দোকান খোলা রাখার সময় বৃদ্ধি করা হবে। সেইসঙ্গে আশ্বস্ত করেছিলেন কোন জেলায় যাতে অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় অপরিকল্পিত বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে আমাদেরকে অবহিত করা হচ্ছে। একশ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নামে মেলার আয়োজন করে নিম্নমানের পণ্য সামগ্রী বিক্রি করছে। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাণিজ্য মেলার কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। উল্লেখ্য, ঈদুল আজহায় বেচাকেনা একটু ভাল হয়। তাই দোকান পাট খোলা রাখার সময় বৃদ্ধি করা হলে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ন্ত্রনে এসেছে। সুতরাং ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে আগামী ১০ মে হতে রাত ১১টা পর্যন্ত মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো খোলা রাখার ঘোষণা প্রদানের জন্য আপনার সদয় নির্দেশনা কামনা করছি। চিঠিতে ঈদুল আযহার পর ৭ দিন মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির নেতারা।

এসকাগজ/আরডি