Dhaka 4:48 am, Tuesday, 21 July 2026
সর্বশেষ
রণক্ষেত্র ভারতের দিল্লি, বন্ধ করা হলো ইন্টারনেট যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হোক ভোটে, অভিযোগে নয় যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতার ইতিহাসে আপসের কোনো জায়গা নেই গণমাধ্যম ও উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: তথ্যমন্ত্রী অবশেষে ১৯ জুলাই প্রথম বর্ষের ক্লাস নোবিপ্রবিতে, দেড় হাজার নবীনের প্রতীক্ষার অবসান ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা’

তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 08:58:54 am, Monday, 4 May 2026
  • / 70 Time View

তামিল সিনেমার জনপ্রিয় মুখ থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানে চমক দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে তার প্রতিষ্ঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (টিভিকে) ১০৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল পিছিয়ে পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের মধ্যে ইতোমধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে, আর এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিজয়ের দল সরকার গঠনের দিকে এগোতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যেখানে ৮২ শতাংশেরও বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্চ উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহের প্রতিফলন। সোমবার (৪ মে) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা চলছে।

চলচ্চিত্র জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয় ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেন এবং শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তার এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলে এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। তিনি নিজেও পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১৯৭৪ সালের ২২ জুন মাদ্রাজে জন্ম নেওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল চলচ্চিত্রে সক্রিয়। ৬৯টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং মা শোভা চন্দ্রশেখর একজন সুপরিচিত গায়িকা। শিক্ষাজীবনে তিনি লয়োলা কলেজে ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তা অসম্পূর্ণ রেখে দেন।

শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থীরপু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয়। শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে ‘কোয়েম্বাটোর মাপ্পিলাই’ ও ‘পুভে উনাক্কাগা’সহ একাধিক সফল সিনেমার মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ভারিসু’ ও ‘লিও’ সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ফ্যান সংগঠন চালু করেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে শুরু করে। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তার সমর্থকরা ১১৫টি আসনে জয়লাভ করে। ২০২৪ সালে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

রাজনীতিতে আসার কারণ সম্পর্কে বিজয় জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করাই তার মূল লক্ষ্য। তার মতে, রাজনীতি কোনো অভিনয়ের মঞ্চ নয়, বরং এটি বাস্তব সংগ্রামের জায়গা। তিনি এম জি রামচন্দ্রন, জে জয়ললিতা এবং এম করুণানিধিকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই যাত্রা চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। ২০২৫ সালে কারুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভিড়ের চাপে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত তার রাজনৈতিক পথকে কঠিন করে তোলে। তবুও তিনি কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

সব মিলিয়ে, চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতিতে বিজয়ের এই রূপান্তর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে, তবে এই মুহূর্তে বিজয়ের উত্থান রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল

Update Time : 08:58:54 am, Monday, 4 May 2026

তামিল সিনেমার জনপ্রিয় মুখ থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানে চমক দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে তার প্রতিষ্ঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ (টিভিকে) ১০৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের দল পিছিয়ে পড়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকদের মধ্যে ইতোমধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে, আর এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিজয়ের দল সরকার গঠনের দিকে এগোতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যেখানে ৮২ শতাংশেরও বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্চ উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক আগ্রহের প্রতিফলন। সোমবার (৪ মে) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা চলছে।

চলচ্চিত্র জগত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয় ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম’ গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেন এবং শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তার এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলে এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। তিনি নিজেও পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

১৯৭৪ সালের ২২ জুন মাদ্রাজে জন্ম নেওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল চলচ্চিত্রে সক্রিয়। ৬৯টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং মা শোভা চন্দ্রশেখর একজন সুপরিচিত গায়িকা। শিক্ষাজীবনে তিনি লয়োলা কলেজে ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তা অসম্পূর্ণ রেখে দেন।

শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থীরপু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন বিজয়। শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে ‘কোয়েম্বাটোর মাপ্পিলাই’ ও ‘পুভে উনাক্কাগা’সহ একাধিক সফল সিনেমার মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ভারিসু’ ও ‘লিও’ সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।

রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ২০০৯ সালে তিনি ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ফ্যান সংগঠন চালু করেন, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে শুরু করে। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তার সমর্থকরা ১১৫টি আসনে জয়লাভ করে। ২০২৪ সালে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

রাজনীতিতে আসার কারণ সম্পর্কে বিজয় জানিয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করাই তার মূল লক্ষ্য। তার মতে, রাজনীতি কোনো অভিনয়ের মঞ্চ নয়, বরং এটি বাস্তব সংগ্রামের জায়গা। তিনি এম জি রামচন্দ্রন, জে জয়ললিতা এবং এম করুণানিধিকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই যাত্রা চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। ২০২৫ সালে কারুরে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভিড়ের চাপে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত তার রাজনৈতিক পথকে কঠিন করে তোলে। তবুও তিনি কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

সব মিলিয়ে, চলচ্চিত্র থেকে রাজনীতিতে বিজয়ের এই রূপান্তর তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নির্বাচনের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে, তবে এই মুহূর্তে বিজয়ের উত্থান রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।