ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, সৎ বাবার মৃত্যুদণ্ড
- Update Time : 11:20:32 am, Tuesday, 29 September 2026
- / 5 Time View
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বার অভিযোগে করা মামলায় সৎ বাবা মো. জামাল হোসেনকে (৪৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
পাশাপাশি এই আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণা সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় ৷ এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, জরিমানার পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী শিশু অথবা তার আইনগত অভিভাবক পাবেন। নির্ধারিত সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পর্যবেক্ষণ বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন। এ ধরনের অপরাধের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে আদালত বলেন, এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, যে সমাজের সে সদস্য, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে।
আরো বলা হয়, সমাজের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব।
জামাল হোসেন একজন মানুষ হিসেবে শিশুটিকে অমানবিকভাবে ধর্ষণ করে একটি ঘৃণ্য অপরাধ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোর স্থানীয় নবীনগর ঢাকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আসামি মো. জামাল হোসেন ভুক্তভোগীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হওয়ায় তারা একই বাসায় বসবাস করতেন। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচরের নবীনগর এলাকায় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জামাল হোসেন শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। একই বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।