তেলের দাম না বাড়ালে এলসি খোলার অর্থের ঘাটতি মেটানো কঠিন ছিল
- Update Time : 02:52:22 pm, Monday, 21 September 2026
- / 2 Time View
জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
আজ সোমবার দুপুরে কারওয়ান বাজার বিপিসির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান।
বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধই লোকসানের মূল কারণ। ডিজেলের ক্ষেত্রে আমাদের গড়ে প্রতি লিটারে প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ এতদিন ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করেছি। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।
আর আমাদের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পাশাপাশি জাহাজভাড়া, প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সরবরাহেও দেরি হচ্ছে। আগে যে জাহাজ ১৫ দিনে আসত, এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ দিনেও পৌঁছাচ্ছে।
ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে আমাদের লোকসানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাভার হবে। তবে তেলের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হওয়ায় এটি নির্দিষ্ট করে বলাও কঠিন। গত সাড়ে ছয় মাসে বিপিসির মাসিক গড় লোকসান প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ১১০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে, যার বড় অংশ ডিজেল থেকে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিপিসির লোকসান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এখন দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা হয়তো প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারব। বাকি অর্থের জন্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় সংস্থান করার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরো বলেন, আগে বিপিসি লাভে থাকাকালে সেই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিটসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই সঞ্চিত অর্থ থেকেই লোকসানের চাপ সামাল দেওয়া হচ্ছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, অক্টোবর পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির জন্য প্রায় ৪০টি এলসি খোলার ক্ষেত্রে আরো প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির জন্য ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন পাওয়া প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করতে হবে। এ কারণে দাম সমন্বয় ছাড়া বিপিসির সামনে তেমন বিকল্প ছিল না।’
ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আগে সঞ্চিত অর্থ থেকেই প্রয়োজন মেটানো হয়েছে। কিন্তু এখন এলসি খোলার জন্য অর্থের প্রয়োজন। তাই দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।’
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি।







