দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম হাইজ্যাক করা হয়েছিল : সমাজকল্যাণমন্ত্রী
- Update Time : 01:10:21 pm, Saturday, 19 September 2026
- / 4 Time View
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু না করেই নামটা পর্যন্ত হাইজ্যাক করে ফেলা হয়েছিল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবনির্মিত কেবিন ও মসজিদ উদ্বোধন, হাসপাতাল পরিদর্শন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কমিটমেন্ট ছিল। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খুরশীদ হাসান হক (চকলেট আপা) এমপি এবং তিনি ড্যাবের মহাসচিব থাকা অবস্থায় ধানক্ষেতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তখন থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন, এরপর অনেক বছর চলে গেছে। বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাজনীতি করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি। একপর্যায়ে কোনো কিছু না করেই প্রতিষ্ঠানটির নামও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছিল। এখন আবার নামটি ফিরে এসেছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০ বছর চলে গেছে, আবার নাম ফিরে এসেছেন। অবিলম্বে জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জনবল রয়েছে। এই জনবল দিয়েই প্রতিদিন ভর্তি থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তিনি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও কিডনি ডায়ালাইসিস সেবার প্রশংসা করে বলেন, এখানে মাত্র ৪০০ টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয়। এত কম খরচে দেশে আর কোথাও ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ১০ জন রোগীর জন্য চারজন নার্স থাকলে সেবার মান আরো ভালো হতো। অথচ বর্তমানে চারজন নার্সকে ২৭ জন রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৩৫০ কিলোমিটার। ফলে এখানে প্রয়োজনীয় জনবল দিতে চাইলেও সব সময় আগ্রহী জনবল পাওয়া যায় না। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরো উন্নত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. শেখ সাদেক আলী, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার মুর্শেদ আলম, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহম্মেদ কচি।





