Dhaka 3:36 am, Sunday, 26 July 2026

একাধিকবার বাস্তুচ্যুতির শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় শিমুলিয়া ও মুলাদীর পরিবারগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 01:17:02 pm, Saturday, 25 July 2026
  • / 18 Time View

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

এক সময় পূর্বাচল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের মানুষ। নব্বইয়ের দশকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর তারা বাধ্য হয়ে পাশের এলাকায় নতুন করে বসতি গড়ে তোলেন। কয়েক দশক পর আবারও সেই পরিবারগুলোর মাথার ওপর নেমে এসেছে উচ্ছেদের আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি সংস্থা শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের প্রায় ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নতুন করে বসতভিটা হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে শতাধিক পরিবারের মধ্যে। তারা বলছেন, জীবনে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো পরিস্থিতি আর সহ্য করার সামর্থ্য তাদের নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পূর্বের অধিগ্রহণে অধিকাংশ পরিবার তাদের বড় আকারের জমি হারিয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থে অল্প কিছু জমি কিনে ছোট ছোট বাড়ি নির্মাণ করে কোনোমতে বসবাস শুরু করেছিলেন তারা। এখন সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে।

তাদের দাবি, দুই থেকে পাঁচ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত বাড়িঘরই এখন পরিবারের একমাত্র ঠিকানা। আবারও উচ্ছেদ করা হলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। তাই তারা বর্তমান বসতিগুলো অক্ষত রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের হার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সরকারি মূল্যায়ন বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। এ অর্থ দিয়ে একই এলাকায় কিংবা আশপাশে নতুন করে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, জমিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। জমি হারালে শুধু বসতভিটাই নয়, আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জমি অধিগ্রহণের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। নতুন করে উচ্ছেদের আশঙ্কায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সরকারের কাছে এমন একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে পুনর্বাসনের সংকটে পড়তে না হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

একাধিকবার বাস্তুচ্যুতির শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় শিমুলিয়া ও মুলাদীর পরিবারগুলো

Update Time : 01:17:02 pm, Saturday, 25 July 2026

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:

এক সময় পূর্বাচল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের মানুষ। নব্বইয়ের দশকে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর তারা বাধ্য হয়ে পাশের এলাকায় নতুন করে বসতি গড়ে তোলেন। কয়েক দশক পর আবারও সেই পরিবারগুলোর মাথার ওপর নেমে এসেছে উচ্ছেদের আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সরকারি সংস্থা শিমুলিয়া ও মুলাদী গ্রামের প্রায় ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নতুন করে বসতভিটা হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে শতাধিক পরিবারের মধ্যে। তারা বলছেন, জীবনে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার মতো পরিস্থিতি আর সহ্য করার সামর্থ্য তাদের নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পূর্বের অধিগ্রহণে অধিকাংশ পরিবার তাদের বড় আকারের জমি হারিয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থে অল্প কিছু জমি কিনে ছোট ছোট বাড়ি নির্মাণ করে কোনোমতে বসবাস শুরু করেছিলেন তারা। এখন সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে।

তাদের দাবি, দুই থেকে পাঁচ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত বাড়িঘরই এখন পরিবারের একমাত্র ঠিকানা। আবারও উচ্ছেদ করা হলে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না। তাই তারা বর্তমান বসতিগুলো অক্ষত রাখার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের হার নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সরকারি মূল্যায়ন বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। এ অর্থ দিয়ে একই এলাকায় কিংবা আশপাশে নতুন করে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, জমিই তাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। জমি হারালে শুধু বসতভিটাই নয়, আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জমি অধিগ্রহণের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। নতুন করে উচ্ছেদের আশঙ্কায় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা সরকারের কাছে এমন একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে পুনর্বাসনের সংকটে পড়তে না হয়।