Dhaka 5:26 pm, Wednesday, 6 May 2026
সর্বশেষ
যে স্বপ্ন পশ্চিমে বিলাসিতা, মালয়েশিয়ায় সে স্বপ্ন বাস্তব নির্বাচনে জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির তাণ্ডব ধর্ম ও রাজনীতির প্রশ্নে দায়িত্বশীল হোক ভাষার প্রয়োগ একাদশ শ্রেণিতে নগদ টাকা সহায়তা দিচ্ছে সরকার দেশের ৫ অঞ্চলে দমকা হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া সঠিক কি না তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বেন না: শিক্ষামন্ত্রী

যে স্বপ্ন পশ্চিমে বিলাসিতা, মালয়েশিয়ায় সে স্বপ্ন বাস্তব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:25:38 am, Wednesday, 6 May 2026
  • / 48 Time View

ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ

বাংলাদেশের যেকোনো শহরের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছবি কল্পনা করুন। রাত গভীর হয়েছে, টেবিলের বাতির নিচে বসে একজন তরুণ পড়ছে, হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, হয়তো বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট স্ক্রল করা। চোখ দুটো উজ্জ্বল, মাথায় হাজার স্বপ্ন — অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, এমআইটি। এই তরুণের স্বপ্ন দেখার সাহস প্রশংসনীয়, নিঃসন্দেহে। কিন্তু পাশের ঘরে যে বাবা বসে আছেন — সংসারের হিসাব মেলাতে মেলাতে ক্লান্ত — তার চোখে সেই স্বপ্নের দাম ধরা দেয় অন্যভাবে। অক্সফোর্ডের বার্ষিক টিউশন ফি, লন্ডনের ঘর ভাড়া, বিমান টিকিট — সব যোগ করলে যে অঙ্কটা দাঁড়ায়, সেটা মধ্যবিত্ত বাংলাদেশি পরিবারের অনেকের কাছে একটা অসম্ভব সংখ্যা।
এই সংখ্যার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক মেধাবী তরুণ থেমে যান। স্বপ্ন থাকে, কিন্তু পথ মেলে না। আর এই থমকে যাওয়া প্রজন্মের জন্যই আজকের এই লেখা — কারণ পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের চকচকে ব্রোশারের বাইরেও একটি পথ আছে, একটি বিকল্প আছে, এবং সেই বিকল্পটি কোনো আপোস নয় — এটি একটি চতুর, বাস্তববাদী এবং অনেক ক্ষেত্রে সেরা সিদ্ধান্ত। সেই পথের নাম — মালয়েশিয়া।

“স্বপ্ন দেখার সাহস যার আছে, কিন্তু পাশ্চাত্যের মূল্য যার নাগালের বাইরে — মালয়েশিয়া তার জন্যই।”
এশিয়ার বুকে গড়ে ওঠা শিক্ষার শহর
মালয়েশিয়াকে অনেকে চেনেন কেবল পর্যটনের গন্তব্য হিসেবে — পেট্রোনাস টাওয়ারের দুই মিনার, লাংকাউইর নীল সমুদ্র, কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত রাস্তা। কিন্তু এই দেশটির আরেকটি পরিচয় আছে, যেটা বাংলাদেশে এখনও ততটা পরিচিত নয় — মালয়েশিয়া আজ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। মালয়েশিয়া সরকার দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় দেশকে গড়ে তুলেছে ‘এডুকেশন হাব অব এশিয়া’ হিসেবে। আজ এই দেশে রয়েছে বিশটিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, চল্লিশটির বেশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, এবং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল নামে বড় নয়, মানেও আন্তর্জাতিক। ইউনিভার্সিটি মালায়া — সংক্ষেপে ইউএম — কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ সত্তরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থাকছে। ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া, ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া, ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া; এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের হার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিয়োগকর্তাদের কাছে স্বীকৃত। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি, টেইলর’স ইউনিভার্সিটি, সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে টুইনিং প্রোগ্রামে যুক্ত, যার মানে মালয়েশিয়ায় বসে পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব, অনেক কম খরচে।


শ্রেণী কক্ষে ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ

খরচের হিসাব: যেখানে স্বপ্ন আর বাস্তব মেলে
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খরচের আলোচনাটি এড়িয়ে গেলে কোনো লেখাই সৎ হয় না। তাই সরাসরি বলি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার মোট ব্যয় পাশ্চাত্যের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে বছরে টিউশন ফি সাধারণত সাত থেকে পনেরো হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। লন্ডনে একই মানের ডিগ্রির জন্য বছরে গুনতে হয় পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ। পার্থক্যটা শুধু সংখ্যায় নয়, এটা বহু পরিবারের জন্য সম্ভব আর অসম্ভবের পার্থক্য।
জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও ছবিটা সমান সুবিধাজনক। কুয়ালালামপুর বা পুত্রাজায়ায় একজন শিক্ষার্থীর মাসিক গড় খরচ — বাসস্থান, তিনবেলা খাওয়া, যানবাহন আর ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিলিয়ে — সাধারণত এক হাজার থেকে পনেরো শো রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ থেকে ৪৭ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। সিডনিতে একই জীবনযাপনে খরচ হয় কমপক্ষে তিন থেকে চার গুণ বেশি। এই হিসাবটা মাথায় রাখলে স্পষ্ট হয়ে যায় — মালয়েশিয়া মানে সুযোগের অবমূল্যায়ন নয়, বরং সম্পদের সঠিক ব্যবহার।

ডিপ্লোমা থেকে পিএইচডি: সবার জন্য একটি পথ
মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা কাঠামোর একটি বিশেষ শক্তি হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক বিস্তার। যিনি সবে এসএসসি পাশ করেছেন, তিনিও মালয়েশিয়ায় ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে স্নাতকে উঠে আসতে পারেন। যিনি এইচএসসি শেষ করেছেন, তার জন্য রয়েছে সরাসরি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রামের সুযোগ — মাত্র এক বছরের এই প্রোগ্রাম শেষে স্নাতকে প্রবেশের দ্বার খুলে যায়। স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক — প্রায় প্রতিটি বিষয়েই পাঠদান হয় ইংরেজি মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম অনুযায়ী।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দুটি ধারা রয়েছে — কোর্সওয়ার্কভিত্তিক মাস্টার্স, যা সাধারণত এক থেকে দুই বছরে শেষ হয়, এবং গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স, যেখানে তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে মৌলিক গবেষণার সুযোগ মেলে। আর পিএইচডির কথা বলতে গেলে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় — মালয়েশিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য ক্রমশ আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাচ্ছে। প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান — বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার পিএইচডি গবেষকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন, বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।


বৃত্তি নিয়ে সৎ কথা: স্বনির্ভরতাই মূল পথ
এই প্রসঙ্গে একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলার সময় এসেছে, কারণ না জেনে স্বপ্ন দেখার চেয়ে জেনেবুঝে পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বৃত্তির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ব্রিটিশ শেভেনিং বা অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডসের মতো বড় এবং ব্যাপক কোনো বৃত্তি প্রকল্প মালয়েশিয়ার নেই। মালয়েশিয়া সরকারের ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ’ বা এমআইএস আছে, কিন্তু সেটা সীমিত আসনে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় মেধার ভিত্তিতে আংশিক ফি-ছাড় দেয়, কিন্তু সেটাকে পূর্ণ বৃত্তি বলা চলে না।
তাহলে কি হতাশ হওয়ার কারণ আছে? না, বরং উল্টো। কারণ মালয়েশিয়ার মূল আকর্ষণটাই হলো এই যে — এখানে নিজের খরচে পড়তে আসাটাও সাশ্রয়ী। যে দেশে বৃত্তি পেলেও বছরে দশ থেকে পনেরো লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়, মালয়েশিয়ায় নিজের খরচেই সেই বাজেটে মানসম্পন্ন পড়াশোনা সম্ভব। তবে পিএইচডি পর্যায়ে একটি বিশেষ সুযোগ আছে যেটা জানা দরকার — মালয়েশিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক অধ্যাপক তাদের গবেষণা অনুদান থেকে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেন। এই পদে নির্বাচিত হলে টিউশন ফি পুরো বা আংশিক মওকুফ হয়, পাশাপাশি মাসিক একটি ভাতাও পাওয়া যায়। ধৈর্য ধরে সঠিক তত্ত্বাবধায়ক খুঁজলে এবং গবেষণার প্রস্তাব ভালো হলে এই সুযোগ অর্জন করা একদম অসম্ভব নয়।
“বৃত্তির অপেক্ষায় বসে থেকে বছরের পর বছর নষ্ট করার চেয়ে, সাশ্রয়ী খরচে এগিয়ে যাওয়াই প্রজ্ঞার কাজ।”


মনের মিল: যেখানে বিদেশটা আপন লাগে
পড়াশোনার খরচ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং দিয়ে একটি দেশের উপযুক্ততা পুরোপুরি মাপা যায় না। একজন বাংলাদেশি তরুণ যখন দেশ ছেড়ে হাজার মাইল দূরে একা পড়তে যান, তখন তার মনের ভেতরে যে ভয়টা কাজ করে — সেটা হলো একাকিত্বের ভয়, অচেনা পরিবেশে হারিয়ে যাওয়ার ভয়। এই ভয়টা মালয়েশিয়ায় অনেকটাই কমে আসে, এবং এর কারণগুলো অত্যন্ত বাস্তব।
মালয়েশিয়া একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ — দেশটির প্রায় ষাট শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। প্রতিটি এলাকায় মসজিদ আছে, জুমার নামাজের সুব্যবস্থা আছে, রমজান মাসে সারাদেশে ইফতারের বাজার বসে। হালাল খাবার মালয়েশিয়ায় সর্বত্র সহজলভ্য — রাস্তার ধারের ছোট দোকান থেকে শুরু করে শপিং মলের ফুড কোর্ট পর্যন্ত। একজন বাংলাদেশি মুসলিম শিক্ষার্থীকে সেখানে প্রতিদিন ‘খাওয়া যাবে কি না’ এই চিন্তায় সময় ব্যয় করতে হয় না — যে সমস্যাটা লন্ডন বা মেলবোর্নে নিত্যদিনের বাস্তবতা।
তার চেয়েও বড় কথা — মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি বিশাল এবং সুসংগঠিত। কুয়ালালামপুর, পেনাং, জোহর বাহরু সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ আছে, বাংলাদেশি মুদিদোকান আছে, এমনকি বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠনও আছে। একজন নতুন শিক্ষার্থী সেখানে গেলে দেখতে পাবেন — তার পাশে আছেন আরেকজন যিনি তার মতোই বাংলা বলেন, তার মতোই ভাত-মাছ খেতে ভালোবাসেন।


তুলনার আয়নায় মালয়েশিয়া
প্রশ্নটা স্বাভাবিক — ভারত তো কাছে, চীনে বৃত্তি আছে, তুরস্কেও সুযোগ আছে, তাহলে মালয়েশিয়া কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে একটু বিস্তারিত ভাবতে হবে। ভারতে পড়তে গেলে খরচ কম, এটা সত্য। কিন্তু ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের তারতম্য অত্যন্ত বেশি। আইআইটি বা আইআইএম ছাড়া অধিকাংশ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বৈশ্বিক নিয়োগকর্তাদের কাছে মালয়েশিয়ার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রির মতো মূল্যায়িত হয় না। মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সি বা এমকিউএ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রোগ্রামের মান কঠোরভাবে তদারক করে, যার ফলে মানের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা আছে।
চীনের ক্ষেত্রে বলতে হয় — সরকারি বৃত্তির সুযোগ থাকলেও ম্যান্ডারিনের দেওয়াল পেরোনো কঠিন। ইংরেজি মাধ্যমের কোর্সগুলো সীমিত, এবং সাংস্কৃতিক ব্যবধানটা যে কারও জন্য বড় মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তুরস্কেও সরকারি বৃত্তি আছে, কিন্তু প্রতিবছর প্রতিযোগিতায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র গুটিকয়েক আসনে সুযোগ পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের খেলা। পাশ্চাত্যের দেশগুলো — যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া — নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন, কিন্তু ব্যয়ের বোঝা এবং ভিসা পাওয়ার জটিলতা মিলিয়ে সেটা অনেকের জন্যই এখনও অপ্রাপ্য। মালয়েশিয়া এই তুলনায় এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে গুণমান, সাশ্রয়, ভিসার সহজলভ্যতা এবং সাংস্কৃতিক আরাম — চারটি বিষয় একসাথে মেলে।


দুই দেশের মেলবন্ধন: শিক্ষার সেতু
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক বহু পুরনো — শ্রম অভিবাসন, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক বন্ধনে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে — শিক্ষার সেতু। বাংলাদেশের বেশ কিছু পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে একাডেমিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। গবেষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে। মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে, কারণ তারা জানে — বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মেধাবী, পরিশ্রমী এবং ক্যাম্পাসের বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
সবচেয়ে প্রভাবশালী যে পরিবর্তনটা ঘটছে, সেটা হলো মানব-মূলধনের প্রবাহ। মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি করে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি গবেষকরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, দেশের গবেষণা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তারা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে ফেরেননি — তারা ফিরেছেন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং গবেষণার একটি পরিপক্ব সংস্কৃতি নিয়ে। এটি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শিক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে টেকসই ফল।


ডিগ্রির পরের গল্প: ক্যারিয়ার কোথায় যাবে?
অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে একটি সংশয় থাকে — মালয়েশিয়ার ডিগ্রি নিয়ে কি সত্যিই ভালো চাকরি পাওয়া যাবে? উত্তরটি কেবল ‘হ্যাঁ’ দিয়ে শেষ করা যাবে না, কারণ ব্যাপারটা একটু বিস্তারিত বোঝার দাবি রাখে। মালয়েশিয়ার এমকিউএ-স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত। বিশেষ করে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন এবং পরিবেশবিজ্ঞানের ডিগ্রি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পাশ্চাত্যের নিয়োগকর্তারা বিবেচনায় নেন।
পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করার সুযোগও আছে। দেশটির টেকনোলজি, ফিনটেক, পেট্রোকেমিক্যাল, পর্যটন এবং উৎপাদন খাতে প্রতি বছর দক্ষ তরুণদের চাহিদা থাকে। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্যও বলা যায় — বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি খাত, ব্যাংকিং-আর্থিক সেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেলিযোগাযোগ এবং আইটি শিল্পে বিদেশি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের প্রতি নিয়োগকর্তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পড়া একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে ফেরেন না — তিনি ফেরেন ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বহুসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া নিয়ে, যেগুলো আজকের বৈশ্বিক চাকরির বাজারে অমূল্য সম্পদ।


সাবধানের মার নেই: যা জানা দরকার
এই লেখায় মালয়েশিয়ার সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে সততার সাথে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল লেখক হিসেবে কিছু সতর্কতার কথাও বলা জরুরি। মালয়েশিয়ায় পড়তে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করা অপরিহার্য। এমকিউএ-র ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে হবে — বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রামটি অনুমোদিত কি না। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে পড়লে শেষে ডিগ্রি স্বীকৃতি না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া কিছু অসাধু দালাল বা এজেন্ট অতিরিক্ত ফি নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে — তাই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেওয়াই শ্রেয়।
ভর্তির পর আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়েও বাস্তবমুখী হওয়া জরুরি। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ নেই — দেশটির ইমিগ্রেশন আইনে স্টুডেন্ট পাসধারীদের অফ-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থান সাধারণত অনুমোদিত নয়। তাই পড়াশোনার পুরো মেয়াদের খরচ — টিউশন ফি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাপন পর্যন্ত — পারিবারিক সঞ্চয় বা নিজস্ব তহবিলের উপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা করতে হবে। এটি কোনো দুর্বলতা নয় — বরং এই স্বচ্ছ হিসাবটা আগে থেকে মাথায় রেখেই রওনা দিলে পথে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় না।


উপসংহার: স্বপ্নকে ডানা দিন, হিসাবের মাটিতে দাঁড়িয়ে
যে তরুণের কথা দিয়ে এই লেখা শুরু হয়েছিল — রাতের আলোয় পড়তে থাকা, স্বপ্নবিলাসী সেই তরুণ — তার জন্য একটাই কথা। তোমার স্বপ্ন ছোট নয়, তোমার যোগ্যতায় ঘাটতি নেই। শুধু পথটা চিনে নাও। মালয়েশিয়া সেই পথের একটি নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষিত এবং হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পায়ে চলা রাস্তা। এই পথে গিয়েছেন যারা, তারা ফিরেছেন পরিপূর্ণ হয়ে — ডিগ্রি হাতে, অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরে, বিশ্বকে একটু ঘনিষ্ঠভাবে চিনে।
শিক্ষার আলো কোনো একটি দেশের একচেটিয়া সম্পদ নয়। সেই আলো জ্বলে মালয়েশিয়ার ক্যাম্পাসগুলোতেও — কুয়ালালামপুরের বৃষ্টিভেজা বিকেলে, পেনাংয়ের সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে, পুত্রাজায়ার পরিকল্পিত রাস্তায়। পাম গাছের ছায়ায় যে পাঠশালা গড়ে উঠেছে, সেখানে বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানদের জন্য আসন পাতা আছে। প্রশ্ন শুধু — আপনি কি সেই সুযোগকে দুই হাতে ধরার সাহস রাখেন?

লেখক: ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ, সহকারী অধ্যাপক, স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই), এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব্ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ), কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যে স্বপ্ন পশ্চিমে বিলাসিতা, মালয়েশিয়ায় সে স্বপ্ন বাস্তব

Update Time : 10:25:38 am, Wednesday, 6 May 2026

ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ

বাংলাদেশের যেকোনো শহরের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছবি কল্পনা করুন। রাত গভীর হয়েছে, টেবিলের বাতির নিচে বসে একজন তরুণ পড়ছে, হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, হয়তো বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট স্ক্রল করা। চোখ দুটো উজ্জ্বল, মাথায় হাজার স্বপ্ন — অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, এমআইটি। এই তরুণের স্বপ্ন দেখার সাহস প্রশংসনীয়, নিঃসন্দেহে। কিন্তু পাশের ঘরে যে বাবা বসে আছেন — সংসারের হিসাব মেলাতে মেলাতে ক্লান্ত — তার চোখে সেই স্বপ্নের দাম ধরা দেয় অন্যভাবে। অক্সফোর্ডের বার্ষিক টিউশন ফি, লন্ডনের ঘর ভাড়া, বিমান টিকিট — সব যোগ করলে যে অঙ্কটা দাঁড়ায়, সেটা মধ্যবিত্ত বাংলাদেশি পরিবারের অনেকের কাছে একটা অসম্ভব সংখ্যা।
এই সংখ্যার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক মেধাবী তরুণ থেমে যান। স্বপ্ন থাকে, কিন্তু পথ মেলে না। আর এই থমকে যাওয়া প্রজন্মের জন্যই আজকের এই লেখা — কারণ পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের চকচকে ব্রোশারের বাইরেও একটি পথ আছে, একটি বিকল্প আছে, এবং সেই বিকল্পটি কোনো আপোস নয় — এটি একটি চতুর, বাস্তববাদী এবং অনেক ক্ষেত্রে সেরা সিদ্ধান্ত। সেই পথের নাম — মালয়েশিয়া।

“স্বপ্ন দেখার সাহস যার আছে, কিন্তু পাশ্চাত্যের মূল্য যার নাগালের বাইরে — মালয়েশিয়া তার জন্যই।”
এশিয়ার বুকে গড়ে ওঠা শিক্ষার শহর
মালয়েশিয়াকে অনেকে চেনেন কেবল পর্যটনের গন্তব্য হিসেবে — পেট্রোনাস টাওয়ারের দুই মিনার, লাংকাউইর নীল সমুদ্র, কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত রাস্তা। কিন্তু এই দেশটির আরেকটি পরিচয় আছে, যেটা বাংলাদেশে এখনও ততটা পরিচিত নয় — মালয়েশিয়া আজ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। মালয়েশিয়া সরকার দুই দশক ধরে অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় দেশকে গড়ে তুলেছে ‘এডুকেশন হাব অব এশিয়া’ হিসেবে। আজ এই দেশে রয়েছে বিশটিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, চল্লিশটির বেশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, এবং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল নামে বড় নয়, মানেও আন্তর্জাতিক। ইউনিভার্সিটি মালায়া — সংক্ষেপে ইউএম — কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ সত্তরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে থাকছে। ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া, ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া, ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া; এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের হার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিয়োগকর্তাদের কাছে স্বীকৃত। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি, টেইলর’স ইউনিভার্সিটি, সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে টুইনিং প্রোগ্রামে যুক্ত, যার মানে মালয়েশিয়ায় বসে পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব, অনেক কম খরচে।


শ্রেণী কক্ষে ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ

খরচের হিসাব: যেখানে স্বপ্ন আর বাস্তব মেলে
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খরচের আলোচনাটি এড়িয়ে গেলে কোনো লেখাই সৎ হয় না। তাই সরাসরি বলি মালয়েশিয়ায় পড়াশোনার মোট ব্যয় পাশ্চাত্যের তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে বছরে টিউশন ফি সাধারণত সাত থেকে পনেরো হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। লন্ডনে একই মানের ডিগ্রির জন্য বছরে গুনতে হয় পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ। পার্থক্যটা শুধু সংখ্যায় নয়, এটা বহু পরিবারের জন্য সম্ভব আর অসম্ভবের পার্থক্য।
জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও ছবিটা সমান সুবিধাজনক। কুয়ালালামপুর বা পুত্রাজায়ায় একজন শিক্ষার্থীর মাসিক গড় খরচ — বাসস্থান, তিনবেলা খাওয়া, যানবাহন আর ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিলিয়ে — সাধারণত এক হাজার থেকে পনেরো শো রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩১ হাজার ৮০০ থেকে ৪৭ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। সিডনিতে একই জীবনযাপনে খরচ হয় কমপক্ষে তিন থেকে চার গুণ বেশি। এই হিসাবটা মাথায় রাখলে স্পষ্ট হয়ে যায় — মালয়েশিয়া মানে সুযোগের অবমূল্যায়ন নয়, বরং সম্পদের সঠিক ব্যবহার।

ডিপ্লোমা থেকে পিএইচডি: সবার জন্য একটি পথ
মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা কাঠামোর একটি বিশেষ শক্তি হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক বিস্তার। যিনি সবে এসএসসি পাশ করেছেন, তিনিও মালয়েশিয়ায় ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন এবং সেখান থেকে ধাপে ধাপে স্নাতকে উঠে আসতে পারেন। যিনি এইচএসসি শেষ করেছেন, তার জন্য রয়েছে সরাসরি ফাউন্ডেশন প্রোগ্রামের সুযোগ — মাত্র এক বছরের এই প্রোগ্রাম শেষে স্নাতকে প্রবেশের দ্বার খুলে যায়। স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক — প্রায় প্রতিটি বিষয়েই পাঠদান হয় ইংরেজি মাধ্যমে, আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম অনুযায়ী।
স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দুটি ধারা রয়েছে — কোর্সওয়ার্কভিত্তিক মাস্টার্স, যা সাধারণত এক থেকে দুই বছরে শেষ হয়, এবং গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স, যেখানে তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে মৌলিক গবেষণার সুযোগ মেলে। আর পিএইচডির কথা বলতে গেলে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় — মালয়েশিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য ক্রমশ আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাচ্ছে। প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, শিক্ষাবিজ্ঞান — বিভিন্ন ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার পিএইচডি গবেষকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন, বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।


বৃত্তি নিয়ে সৎ কথা: স্বনির্ভরতাই মূল পথ
এই প্রসঙ্গে একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলার সময় এসেছে, কারণ না জেনে স্বপ্ন দেখার চেয়ে জেনেবুঝে পরিকল্পনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বৃত্তির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ব্রিটিশ শেভেনিং বা অস্ট্রেলিয়ান অ্যাওয়ার্ডসের মতো বড় এবং ব্যাপক কোনো বৃত্তি প্রকল্প মালয়েশিয়ার নেই। মালয়েশিয়া সরকারের ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ’ বা এমআইএস আছে, কিন্তু সেটা সীমিত আসনে এবং প্রতিযোগিতা তীব্র। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় মেধার ভিত্তিতে আংশিক ফি-ছাড় দেয়, কিন্তু সেটাকে পূর্ণ বৃত্তি বলা চলে না।
তাহলে কি হতাশ হওয়ার কারণ আছে? না, বরং উল্টো। কারণ মালয়েশিয়ার মূল আকর্ষণটাই হলো এই যে — এখানে নিজের খরচে পড়তে আসাটাও সাশ্রয়ী। যে দেশে বৃত্তি পেলেও বছরে দশ থেকে পনেরো লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়, মালয়েশিয়ায় নিজের খরচেই সেই বাজেটে মানসম্পন্ন পড়াশোনা সম্ভব। তবে পিএইচডি পর্যায়ে একটি বিশেষ সুযোগ আছে যেটা জানা দরকার — মালয়েশিয়ার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক অধ্যাপক তাদের গবেষণা অনুদান থেকে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেন। এই পদে নির্বাচিত হলে টিউশন ফি পুরো বা আংশিক মওকুফ হয়, পাশাপাশি মাসিক একটি ভাতাও পাওয়া যায়। ধৈর্য ধরে সঠিক তত্ত্বাবধায়ক খুঁজলে এবং গবেষণার প্রস্তাব ভালো হলে এই সুযোগ অর্জন করা একদম অসম্ভব নয়।
“বৃত্তির অপেক্ষায় বসে থেকে বছরের পর বছর নষ্ট করার চেয়ে, সাশ্রয়ী খরচে এগিয়ে যাওয়াই প্রজ্ঞার কাজ।”


মনের মিল: যেখানে বিদেশটা আপন লাগে
পড়াশোনার খরচ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং দিয়ে একটি দেশের উপযুক্ততা পুরোপুরি মাপা যায় না। একজন বাংলাদেশি তরুণ যখন দেশ ছেড়ে হাজার মাইল দূরে একা পড়তে যান, তখন তার মনের ভেতরে যে ভয়টা কাজ করে — সেটা হলো একাকিত্বের ভয়, অচেনা পরিবেশে হারিয়ে যাওয়ার ভয়। এই ভয়টা মালয়েশিয়ায় অনেকটাই কমে আসে, এবং এর কারণগুলো অত্যন্ত বাস্তব।
মালয়েশিয়া একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ — দেশটির প্রায় ষাট শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। প্রতিটি এলাকায় মসজিদ আছে, জুমার নামাজের সুব্যবস্থা আছে, রমজান মাসে সারাদেশে ইফতারের বাজার বসে। হালাল খাবার মালয়েশিয়ায় সর্বত্র সহজলভ্য — রাস্তার ধারের ছোট দোকান থেকে শুরু করে শপিং মলের ফুড কোর্ট পর্যন্ত। একজন বাংলাদেশি মুসলিম শিক্ষার্থীকে সেখানে প্রতিদিন ‘খাওয়া যাবে কি না’ এই চিন্তায় সময় ব্যয় করতে হয় না — যে সমস্যাটা লন্ডন বা মেলবোর্নে নিত্যদিনের বাস্তবতা।
তার চেয়েও বড় কথা — মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি বিশাল এবং সুসংগঠিত। কুয়ালালামপুর, পেনাং, জোহর বাহরু সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ আছে, বাংলাদেশি মুদিদোকান আছে, এমনকি বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠনও আছে। একজন নতুন শিক্ষার্থী সেখানে গেলে দেখতে পাবেন — তার পাশে আছেন আরেকজন যিনি তার মতোই বাংলা বলেন, তার মতোই ভাত-মাছ খেতে ভালোবাসেন।


তুলনার আয়নায় মালয়েশিয়া
প্রশ্নটা স্বাভাবিক — ভারত তো কাছে, চীনে বৃত্তি আছে, তুরস্কেও সুযোগ আছে, তাহলে মালয়েশিয়া কেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে একটু বিস্তারিত ভাবতে হবে। ভারতে পড়তে গেলে খরচ কম, এটা সত্য। কিন্তু ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের তারতম্য অত্যন্ত বেশি। আইআইটি বা আইআইএম ছাড়া অধিকাংশ ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বৈশ্বিক নিয়োগকর্তাদের কাছে মালয়েশিয়ার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রির মতো মূল্যায়িত হয় না। মালয়েশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মালয়েশিয়ান কোয়ালিফিকেশনস এজেন্সি বা এমকিউএ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রোগ্রামের মান কঠোরভাবে তদারক করে, যার ফলে মানের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা আছে।
চীনের ক্ষেত্রে বলতে হয় — সরকারি বৃত্তির সুযোগ থাকলেও ম্যান্ডারিনের দেওয়াল পেরোনো কঠিন। ইংরেজি মাধ্যমের কোর্সগুলো সীমিত, এবং সাংস্কৃতিক ব্যবধানটা যে কারও জন্য বড় মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। তুরস্কেও সরকারি বৃত্তি আছে, কিন্তু প্রতিবছর প্রতিযোগিতায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র গুটিকয়েক আসনে সুযোগ পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের খেলা। পাশ্চাত্যের দেশগুলো — যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া — নিঃসন্দেহে মানসম্পন্ন, কিন্তু ব্যয়ের বোঝা এবং ভিসা পাওয়ার জটিলতা মিলিয়ে সেটা অনেকের জন্যই এখনও অপ্রাপ্য। মালয়েশিয়া এই তুলনায় এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে গুণমান, সাশ্রয়, ভিসার সহজলভ্যতা এবং সাংস্কৃতিক আরাম — চারটি বিষয় একসাথে মেলে।


দুই দেশের মেলবন্ধন: শিক্ষার সেতু
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক বহু পুরনো — শ্রম অভিবাসন, বাণিজ্য এবং কূটনৈতিক বন্ধনে দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্ক একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে — শিক্ষার সেতু। বাংলাদেশের বেশ কিছু পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে একাডেমিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। গবেষক বিনিময়, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং দ্বৈত ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু হচ্ছে। মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে, কারণ তারা জানে — বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা মেধাবী, পরিশ্রমী এবং ক্যাম্পাসের বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
সবচেয়ে প্রভাবশালী যে পরিবর্তনটা ঘটছে, সেটা হলো মানব-মূলধনের প্রবাহ। মালয়েশিয়া থেকে পিএইচডি করে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি গবেষকরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, দেশের গবেষণা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তারা শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে ফেরেননি — তারা ফিরেছেন একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং গবেষণার একটি পরিপক্ব সংস্কৃতি নিয়ে। এটি বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শিক্ষা সম্পর্কের সবচেয়ে টেকসই ফল।


ডিগ্রির পরের গল্প: ক্যারিয়ার কোথায় যাবে?
অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মনে একটি সংশয় থাকে — মালয়েশিয়ার ডিগ্রি নিয়ে কি সত্যিই ভালো চাকরি পাওয়া যাবে? উত্তরটি কেবল ‘হ্যাঁ’ দিয়ে শেষ করা যাবে না, কারণ ব্যাপারটা একটু বিস্তারিত বোঝার দাবি রাখে। মালয়েশিয়ার এমকিউএ-স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত। বিশেষ করে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন এবং পরিবেশবিজ্ঞানের ডিগ্রি মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পাশ্চাত্যের নিয়োগকর্তারা বিবেচনায় নেন।
পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় থেকে কাজ করার সুযোগও আছে। দেশটির টেকনোলজি, ফিনটেক, পেট্রোকেমিক্যাল, পর্যটন এবং উৎপাদন খাতে প্রতি বছর দক্ষ তরুণদের চাহিদা থাকে। আর যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের জন্যও বলা যায় — বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি খাত, ব্যাংকিং-আর্থিক সেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল, টেলিযোগাযোগ এবং আইটি শিল্পে বিদেশি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের প্রতি নিয়োগকর্তাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পড়া একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি ডিগ্রি নিয়ে ফেরেন না — তিনি ফেরেন ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আন্তর্জাতিক পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বহুসাংস্কৃতিক বোঝাপড়া নিয়ে, যেগুলো আজকের বৈশ্বিক চাকরির বাজারে অমূল্য সম্পদ।


সাবধানের মার নেই: যা জানা দরকার
এই লেখায় মালয়েশিয়ার সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়েছে সততার সাথে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল লেখক হিসেবে কিছু সতর্কতার কথাও বলা জরুরি। মালয়েশিয়ায় পড়তে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় যাচাই করা অপরিহার্য। এমকিউএ-র ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখতে হবে — বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রামটি অনুমোদিত কি না। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানে পড়লে শেষে ডিগ্রি স্বীকৃতি না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া কিছু অসাধু দালাল বা এজেন্ট অতিরিক্ত ফি নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে — তাই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নেওয়াই শ্রেয়।
ভর্তির পর আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়েও বাস্তবমুখী হওয়া জরুরি। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ নেই — দেশটির ইমিগ্রেশন আইনে স্টুডেন্ট পাসধারীদের অফ-ক্যাম্পাস কর্মসংস্থান সাধারণত অনুমোদিত নয়। তাই পড়াশোনার পুরো মেয়াদের খরচ — টিউশন ফি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাপন পর্যন্ত — পারিবারিক সঞ্চয় বা নিজস্ব তহবিলের উপর ভিত্তি করেই পরিকল্পনা করতে হবে। এটি কোনো দুর্বলতা নয় — বরং এই স্বচ্ছ হিসাবটা আগে থেকে মাথায় রেখেই রওনা দিলে পথে গিয়ে বিপদে পড়তে হয় না।


উপসংহার: স্বপ্নকে ডানা দিন, হিসাবের মাটিতে দাঁড়িয়ে
যে তরুণের কথা দিয়ে এই লেখা শুরু হয়েছিল — রাতের আলোয় পড়তে থাকা, স্বপ্নবিলাসী সেই তরুণ — তার জন্য একটাই কথা। তোমার স্বপ্ন ছোট নয়, তোমার যোগ্যতায় ঘাটতি নেই। শুধু পথটা চিনে নাও। মালয়েশিয়া সেই পথের একটি নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষিত এবং হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর পায়ে চলা রাস্তা। এই পথে গিয়েছেন যারা, তারা ফিরেছেন পরিপূর্ণ হয়ে — ডিগ্রি হাতে, অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরে, বিশ্বকে একটু ঘনিষ্ঠভাবে চিনে।
শিক্ষার আলো কোনো একটি দেশের একচেটিয়া সম্পদ নয়। সেই আলো জ্বলে মালয়েশিয়ার ক্যাম্পাসগুলোতেও — কুয়ালালামপুরের বৃষ্টিভেজা বিকেলে, পেনাংয়ের সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে, পুত্রাজায়ার পরিকল্পিত রাস্তায়। পাম গাছের ছায়ায় যে পাঠশালা গড়ে উঠেছে, সেখানে বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানদের জন্য আসন পাতা আছে। প্রশ্ন শুধু — আপনি কি সেই সুযোগকে দুই হাতে ধরার সাহস রাখেন?

লেখক: ড. মোহাম্মদ রাশেদ হাসান পলাশ, সহকারী অধ্যাপক, স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই), এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব্ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন (এপিইউ), কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া।