Dhaka 4:01 am, Wednesday, 26 August 2026
সর্বশেষ
নাগরিকত্ব থেকে মক্কা চুক্তি: হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে যত প্রশ্ন বসুন্ধরার স্টিল প্রকল্পে একের পর এক ধাক্কা, বাড়ল ব্যয় ৩ হাজার কোটি এক ছাদের নিচে সরকারি সেবা, দাউদপুরে প্রশংসিত উদ্যোগ চীনে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ, বাংলাদেশকে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ পরীমণির গাড়ি বিতর্কে নামের ভুলে কি বদলে গিয়েছিল আসল পরিচয়? এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারত সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতবিরোধী রাজনীতির ফাঁদে পড়লে বিপদ বিএনপিরই ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল উগ্রবাদকে ছাড় নয়, আইনের কঠোর প্রয়োগই হতে পারে সমাধান

ধর্ম ও রাজনীতির প্রশ্নে দায়িত্বশীল হোক ভাষার প্রয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:13:17 am, Wednesday, 6 May 2026
  • / 93 Time View

মন্তব্য প্রতিবেদন-
গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই মত প্রকাশের দায়িত্ববোধ । বিশেষ করে যারা জননেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা টেলিভিশনের আলোচিত মুখ- তাদের প্রতিটি শব্দই সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ধর্ম, বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আরও বেশি সংযম, প্রজ্ঞা ও সম্মানবোধ প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির “যাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম” এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এ বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবেও দেখছেন। কারণ, যাকাত ইসলামে একটি ফরজ ইবাদত এবং মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি বিধান । এটি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের এক মানবিক ব্যবস্থা।

অন্যদিকে চাঁদাবাজি সমাজে ভয়, বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়ের প্রতীক। একটি মহৎ ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে এমন ঘৃণ্য অপরাধের তুলনা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, রাজনৈতিক সমালোচনাও হতে পারে—কিন্তু কোনো ধর্মের মৌলিক অনুশাসনকে হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেওয়া কখনোই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।

বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই এমন কোনো বক্তব্য কাম্য নয়, যা সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ কিংবা অস্থিরতার জন্ম দেয়। একজন রাজনীতিকের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত মানুষকে ঐক্যের পথে ডাকা, বিভ্রান্তি বা উসকানির পথে নয়।
আজ মানুষের প্রত্যাশা- রাজনীতি হোক শালীনতার, নেতৃত্ব হোক প্রজ্ঞার, আর জনপরিসরের ভাষা হোক দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল। কারণ, অসাবধানী একটি বাক্যও সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করার স্বাধীনতা হতে পারে না।
সবশেষে, ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের মনে রাখতে হবে- ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করা একটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য শর্ত।

সাঈদ মুহাম্মদ আজিজ
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া কর্মকর্তা

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধর্ম ও রাজনীতির প্রশ্নে দায়িত্বশীল হোক ভাষার প্রয়োগ

Update Time : 10:13:17 am, Wednesday, 6 May 2026

মন্তব্য প্রতিবেদন-
গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই মত প্রকাশের দায়িত্ববোধ । বিশেষ করে যারা জননেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা টেলিভিশনের আলোচিত মুখ- তাদের প্রতিটি শব্দই সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ধর্ম, বিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আরও বেশি সংযম, প্রজ্ঞা ও সম্মানবোধ প্রয়োজন।

সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির “যাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম” এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই এ বক্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবেও দেখছেন। কারণ, যাকাত ইসলামে একটি ফরজ ইবাদত এবং মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি বিধান । এটি শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও দারিদ্র্য বিমোচনের এক মানবিক ব্যবস্থা।

অন্যদিকে চাঁদাবাজি সমাজে ভয়, বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়ের প্রতীক। একটি মহৎ ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে এমন ঘৃণ্য অপরাধের তুলনা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে পারে। ভিন্নমত থাকতেই পারে, রাজনৈতিক সমালোচনাও হতে পারে—কিন্তু কোনো ধর্মের মৌলিক অনুশাসনকে হেয় প্রতিপন্ন করে বক্তব্য দেওয়া কখনোই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।

বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের দেশ। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই এমন কোনো বক্তব্য কাম্য নয়, যা সমাজে বিভাজন, বিদ্বেষ কিংবা অস্থিরতার জন্ম দেয়। একজন রাজনীতিকের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত মানুষকে ঐক্যের পথে ডাকা, বিভ্রান্তি বা উসকানির পথে নয়।
আজ মানুষের প্রত্যাশা- রাজনীতি হোক শালীনতার, নেতৃত্ব হোক প্রজ্ঞার, আর জনপরিসরের ভাষা হোক দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল। কারণ, অসাবধানী একটি বাক্যও সমাজে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের বিশ্বাসকে আঘাত করার স্বাধীনতা হতে পারে না।
সবশেষে, ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের মনে রাখতে হবে- ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্মান রক্ষা করা একটি সভ্য সমাজের অপরিহার্য শর্ত।

সাঈদ মুহাম্মদ আজিজ
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া কর্মকর্তা