Dhaka 7:10 pm, Monday, 4 May 2026
সর্বশেষ
নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া সঠিক কি না তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তামিল রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল ঈদ উপলক্ষে মার্কেট-শপিং মল রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার শিক্ষকের কেউ বাদ পড়বেন না: শিক্ষামন্ত্রী ৬৮ হাজার এনআইডি আবেদন আটকে, দ্রুত সমাধানে নির্দেশনা ইরানের ১৪ দফার নতুন শান্তি প্রস্তাব, গ্রহণের বিষয়ে ‘সন্দিহান’ ট্রাম্প উম আল কুরার তারিখ অনুযায়ী সৌদিতে ঈদ ২৭ মে আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ৬ দিন পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া সঠিক কি না তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি

সময়ের কাগজ ডেস্ক :
  • Update Time : 11:57:58 am, Monday, 4 May 2026
  • / 5 Time View

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ইসলামী ব্যাংকে জাল সার্টিফিকেট, বক্সভিত্তিক বায়োডাটা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা ছাড়াই কর্মী নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের ছাঁটাই করে ব্যাংকগুলো। এই নিয়োগ ও ছাঁটাই বিধিসম্মত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি কমিটি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো কীভাবে ছাঁটাই করেছে এবং এসব নিয়োগের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা হয়েছিল কি না-এসব তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

ব্যাংক ছয়টি হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। আওয়ামী সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংক থেকে অনেকেই চাকরিচ্যুত হন। এসব কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল জড়ো হয়ে ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে শোডাউন করেন। তাদের দাবি, এসব ব্যাংক থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই দিন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের নামে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে আরেকটি পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।তিনি আরো বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেছে কি না এবং কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না- তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। এসব ব্যাংকের চাকরিচ্যুতি ইস্যুতে উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলছে। প্রয়োজন হলে আদালতে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। আদালত চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ব্যাংকটির জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ছিল ৭৭৬ জন। এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই আট হাজার ৩৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এসব কর্মীকে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন নিয়োগের ফলে দেশের বাকি ৬৩টি জেলার চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। একটি জেলার প্রার্থীদের গোপনে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকের শৃঙ্খলা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাংকে যোগদানের পর গ্রাহকসেবার মানও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।যাচাই-বাছাই ছাড়া নিয়োগ পাওয়া পাঁচ হাজার ৩৮৫ জনের যোগ্যতা মূল্যায়নে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪১৪ জন। বাকি চার হাজার ৯৫৩ জন অংশ না নেওয়ায় প্রথমে তাদের ওএসডি এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।এই বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বাতিল চেয়ে গত ২১ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন ব্যাংকটির চট্টগ্রামের চাক্তাই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জিয়া উদ্দিন নোমান। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিটকারীকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া এবং চাকরিতে কাউকে রাখা বা না রাখার বিষয়টি ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নিয়োগ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া সঠিক কি না তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি

Update Time : 11:57:58 am, Monday, 4 May 2026

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ইসলামী ব্যাংকে জাল সার্টিফিকেট, বক্সভিত্তিক বায়োডাটা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা ছাড়াই কর্মী নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের ছাঁটাই করে ব্যাংকগুলো। এই নিয়োগ ও ছাঁটাই বিধিসম্মত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে একটি কমিটি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলো কীভাবে ছাঁটাই করেছে এবং এসব নিয়োগের আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা হয়েছিল কি না-এসব তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

ব্যাংক ছয়টি হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। আওয়ামী সরকারের পতনের পর এসব ব্যাংক থেকে অনেকেই চাকরিচ্যুত হন। এসব কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল জড়ো হয়ে ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকের সামনে শোডাউন করেন। তাদের দাবি, এসব ব্যাংক থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই দিন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের নামে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে আরেকটি পক্ষ। এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, একটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।তিনি আরো বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেছে কি না এবং কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না- তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। এসব ব্যাংকের চাকরিচ্যুতি ইস্যুতে উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলছে। প্রয়োজন হলে আদালতে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। আদালত চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ব্যাংকটির জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ছিল ৭৭৬ জন। এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটিতে প্রায় ১১ হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কোনো ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই আট হাজার ৩৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেশির ভাগই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এসব কর্মীকে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন নিয়োগের ফলে দেশের বাকি ৬৩টি জেলার চাকরিপ্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। একটি জেলার প্রার্থীদের গোপনে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকের শৃঙ্খলা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যাংকে যোগদানের পর গ্রাহকসেবার মানও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।যাচাই-বাছাই ছাড়া নিয়োগ পাওয়া পাঁচ হাজার ৩৮৫ জনের যোগ্যতা মূল্যায়নে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪১৪ জন। বাকি চার হাজার ৯৫৩ জন অংশ না নেওয়ায় প্রথমে তাদের ওএসডি এবং পরবর্তী সময়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।এই বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বাতিল চেয়ে গত ২১ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন ব্যাংকটির চট্টগ্রামের চাক্তাই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জিয়া উদ্দিন নোমান। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিটকারীকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া এবং চাকরিতে কাউকে রাখা বা না রাখার বিষয়টি ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।

এসকাগজ/আরডি