‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’, দীপের রিমান্ড শুনানির আগে বললেন বিচারক
- Update Time : 11:05:39 am, Tuesday, 3 November 2026
- / 10 Time View
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। দীপের রিমান্ড শুনানিতে ‘সাংবাদিকরা এখানে কেন’ এমন প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানির আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।
এ দিন শুনানির শুরুতে এজলাসে সাংবাদিকদের দেখে ক্ষুব্ধ হন বিচারক। সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা জাতীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন? শুনানির পর পিপি-এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে।
আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’
এ সময় বিচারক পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন, কেউ থাকবে না ভেতরে।’ পরে সাংবাদিকরা এজলাসের পেছনে একপাশে গিয়ে দাঁড়ান।
পরে শুনানি শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু বলেন, এটা যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল। সেহেতু শুধু জার্নালিস্টরা নয়, পাবলিকরাও থাকতে পারবে। আর সাংবাদিকরা জাতির দর্পণ ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন। ওপেন ট্রায়ালে তারা থাকলে শুনানিতে কি হলো, তা জাতিকে জানাতে পারেন।
সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলা ঠিক হয়নি।
এ দিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। রিমান্ড আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এই আসামি ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির। তাই তিনি জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান, নীরবতা পালন করেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আদালতকে বলেন, মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। আসামির সঙ্গে এই মামলার ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামি সুকৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, কথোপকথন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না। ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা জানার জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ দিন আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। এর আগে এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত শনিবার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। একই মামলায় গ্রেপ্তার এক তরুণী এখন চার দিনের রিমান্ডে আছেন। গত রবিবার তার রিমান্ড মঞ্জুর হয়।






