Dhaka 7:34 pm, Tuesday, 3 November 2026
সর্বশেষ
অপহরণের পর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, চট্টগ্রামে যুবক গ্রেপ্তার ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট ওয়াই আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি থেকে ম্যানিলা, আটলান্টা—২০২৬ সালে নতুন গতি পেয়েছে কোয়াড বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ, সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ার প্রস্তাব হাতি-গাধার মধ্যবর্তী লড়াইয়ে যেভাবে পাল্টাতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বাইন্যান্সে ভয়াবহ সাইবার হামলা, চুরি ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাংলা-ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখাতে চায় সরকার ছয় ঘণ্টার জন্য টোলমুক্ত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:45:01 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • / 1 Time View

আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ সামিট আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সামিটের প্রস্তুতি ও বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হচ্ছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এতে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে।

সামিটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতায় এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘AI-fication for Tomorrow’s Economy’ বা ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’। মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী জানান, ৫ নভেম্বর দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় প্রথম অধিবেশনে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন। একই সময়ে হল অব ফেমে দ্বিতীয় অধিবেশনে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের অংশীদারি জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে।

সামিটে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।

এর মধ্যে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ) শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত এআই প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক এতে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষার প্রসার; গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাজারোপযোগী করা; গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও বাজারের সংযোগ তৈরি এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।

তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো এবং নতুন ওষুধ ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢাকায় ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট

Update Time : 12:45:01 pm, Tuesday, 3 November 2026

আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ সামিট আয়োজন করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সামিটের প্রস্তুতি ও বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হচ্ছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এতে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে।

সামিটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এ বাস্তবতায় এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘AI-fication for Tomorrow’s Economy’ বা ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’। মানুষ, ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তর ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী জানান, ৫ নভেম্বর দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় প্রথম অধিবেশনে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন। একই সময়ে হল অব ফেমে দ্বিতীয় অধিবেশনে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের অংশীদারি জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেল ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ডিজিটাল সহকর্মী হিসেবে এআই এজেন্টের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে।

সামিটে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে।

এর মধ্যে ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ) শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত এআই প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শন করবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটি প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক এতে অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চারটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষার প্রসার; গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাজারোপযোগী করা; গবেষকদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী ও বাজারের সংযোগ তৈরি এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ।

তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে। তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো এবং নতুন ওষুধ ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে।