Dhaka 12:12 am, Tuesday, 20 October 2026
সর্বশেষ
বনানী থেকে গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা মালয়েশিয়ায় পেনাং রাজ্য জর্জ টাউনে হাইকমিশনে কনস্যুলার সেবা পেলেন তিন শতাধিক বাংলাদেশি ভাসমান হাসপাতাল ও ওয়াটারবাসের মডেল পরিদর্শনে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী পূজার ছুটিতে মেট্রো রেলের সূচিতে পরিবর্তন জুলাই হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে মেনন নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১৯ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশ্বকাপে গ্রুপসেরা হতে চায় বাংলাদেশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদিতে নিহত পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলুন : প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে বাংলাদেশীসহ আটক ৬৫ হাজার

মো, এলাহী মালয়েশিয়া
  • Update Time : 03:05:31 pm, Sunday, 18 October 2026
  • / 35 Time View

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অব্যাহত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব অপরাধ বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার।

তিনি জানান, অভিযানে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি জানান, কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে অন্য ১০ জনকে অবৈধ পথে দেশ থেকে বের করে নেওয়ার কাজে যুক্ত পরিবহনকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্য ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওয়াকাফ চে ইয়েতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার কথা জানা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। কিন্তু ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিবাসন বিভাগ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত।

তিনি বলেন, বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর ১৫(১), ১২ ও ৩৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার দেশটির অতিরিক্ত ভিড়ের মুখে থাকা কারাগারগুলোর একটি।

কারাগারের বন্দিদের বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। এমনকি ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদকের ব্যবহার রয়েছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ এবং কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় এ হার এক হাজারের বেশি।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ায় একদিকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের রাখার অবকাঠামো এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এসকাগজ/আরডি

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে বাংলাদেশীসহ আটক ৬৫ হাজার

Update Time : 03:05:31 pm, Sunday, 18 October 2026

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অব্যাহত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব অপরাধ বেশি শনাক্ত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি বা মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহার।

তিনি জানান, অভিযানে আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ, সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি জানান, কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এছাড়া অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে অন্য ১০ জনকে অবৈধ পথে দেশ থেকে বের করে নেওয়ার কাজে যুক্ত পরিবহনকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্য ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওয়াকাফ চে ইয়েতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার কথা জানা গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। কিন্তু ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিবাসন বিভাগ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগের এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত অবস্থান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত।

তিনি বলেন, বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর ১৫(১), ১২ ও ৩৯ ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন। কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার দেশটির অতিরিক্ত ভিড়ের মুখে থাকা কারাগারগুলোর একটি।

কারাগারের বন্দিদের বয়সভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। এমনকি ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—উভয় ধরনের মাদকের ব্যবহার রয়েছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি। কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ এবং কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় এ হার এক হাজারের বেশি।

সাইফুদ্দিন নাসুতিওন বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ায় একদিকে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে আটক ব্যক্তিদের রাখার অবকাঠামো এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এসকাগজ/আরডি