যৌনকর্ম, মানবপাচার ও যৌন শোষণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য জরুরি
- Update Time : 08:22:19 am, Thursday, 15 October 2026
- / 5 Time View
যৌনকর্ম, মানবপাচার ও যৌন শোষণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি। যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে অধিকার দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচার বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক নেই।
একই সঙ্গে যৌনকর্মীদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মীরা।
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নারীপক্ষের কার্যালয়ের ‘নাসরীন হক সভাকক্ষে’ আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নারীপক্ষ আয়োজিত ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন।
সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার (সোয়াসা) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা বলেন, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা কিংবা যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচারের কোনো সম্পর্ক নেই। যৌনকর্ম ও মানবপাচারকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যারা বিভিন্ন কারণে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তাদের কাজের পরিবেশ নিরাপদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানুষ হিসেবে তাদের মানবাধিকার এবং নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
যৌনকর্মের সংজ্ঞা তুলে ধরে জান্নাত হুসনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যৌনকর্ম বলতে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকে বোঝানো হয়। এ ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী, উভয়কেই প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং তাদের সম্মতি থাকতে হবে। অন্যদিকে জোরপূর্বক যৌনসেবা গ্রহণ, শোষণ ও নিপীড়ন যৌন শোষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অপরাধের সঙ্গে সম্মতিভিত্তিক যৌনকর্মের পার্থক্য বোঝা জরুরি।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন বলেন, নাগরিকত্বের প্রশ্নে একজন সাধারণ নারী ও একজন যৌনকর্মীর অবস্থান একই।
দুজনই এ দেশের নাগরিক। তাই অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাদের পরস্পরের পাশে থাকা উচিত।
তিনি বলেন, যৌনকর্মীদের একটি বিশেষ পরিচয়ের মধ্যে আটকে রেখে প্রায়ই অপরাধপ্রবণ হিসেবে দেখা হয়। সমাজের নানা কলঙ্ক ও নেতিবাচক অপবাদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সমাজে আরো বড় বড় অপরাধ ঘটলেও সেগুলো নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। যৌনকর্মীদের সবার আগে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে যৌনকর্মে যুক্ত করা যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। মানব পাচার ও যৌন শোষণের ক্ষেত্রে জবরদস্তি, নিপীড়ন এবং সম্মতির অনুপস্থিতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও এসব পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা।
তারা বলেন, যৌনকর্মীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল ভাষায় সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।









