Dhaka 4:23 pm, Thursday, 15 October 2026
সর্বশেষ
জামালপুর নার্সিং কলেজে তৃতীয় দিনেও শাটডাউন দেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কোনো ভেদাভেদ নেই : প্রতিমন্ত্রী পুতুল চিকিৎসকদের বদলিতে অটোমেশন চালু, প্রথম ধাপে ৯৫ জন প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে আলোচিত আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ছাড়, খরচ নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে সুবিধা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ নাইক্ষ্যংছড়িতে দুই বস্তা থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি গোপালগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

জামালপুর নার্সিং কলেজে তৃতীয় দিনেও শাটডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 08:51:39 am, Thursday, 15 October 2026
  • / 3 Time View

জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নতুন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান ঠেকাতে তৃতীয় দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যোগদান করতে পারেননি নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন যোগদান করতে কলেজে এলে তাকে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে কলেজটির ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়।

একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এ আদেশের পর থেকেই মাকসুদার যোগদান ঠেকানো এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।

এ কারণে তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে চান না তারা। 

শিক্ষার্থী জয় বলেন, ‘তিনদিন ধরে আন্দোলন চলছে। আজ তিনি যোগদান করতে এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে প্রবেশ করতে দেইনি। তার যোগদানের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিলে আমাদের আপত্তি নেই।

শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, ‘শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকেরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার যোগদানে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যোগদান করতে এসে আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামালপুর নার্সিং কলেজে তৃতীয় দিনেও শাটডাউন

Update Time : 08:51:39 am, Thursday, 15 October 2026

জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের নতুন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের যোগদান ঠেকাতে তৃতীয় দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। এতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যোগদান করতে পারেননি নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন। 

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন যোগদান করতে কলেজে এলে তাকে প্রবেশে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে কলেজটির ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়।

একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এ আদেশের পর থেকেই মাকসুদার যোগদান ঠেকানো এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তার আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।

এ কারণে তাকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে চান না তারা। 

শিক্ষার্থী জয় বলেন, ‘তিনদিন ধরে আন্দোলন চলছে। আজ তিনি যোগদান করতে এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে প্রবেশ করতে দেইনি। তার যোগদানের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিলে আমাদের আপত্তি নেই।

শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, ‘শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকেরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার যোগদানে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যোগদান করতে এসে আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’