নেতানিয়াহুর বিদায়ে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে কি সত্যিই পরিবর্তন আসবে?
- Update Time : 02:11:08 pm, Tuesday, 13 October 2026
- / 3 Time View
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একজোট হয়েছে দেশটির চারটি প্রধান বিরোধী দল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইয়াশার পার্টি, ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু ও টুগেদার জোটের নেতারা বর্তমান সরকারকে পরাজিত করতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক ঘোষণাপত্রে তাঁরা নির্বাচনের আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচার না চালানো এবং নির্বাচনের পর সরকার গঠনে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে ইয়ার লাপিদ, গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট, আভিগদর লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান উপস্থিত ছিলেন। সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটের নাম আলোচনায় রয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে।
জনমত জরিপে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও কোনো পক্ষই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। দুর্নীতির অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যর্থতা এবং সামরিক বাহিনীতে অতি-গোঁড়া ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সেবা নিয়েও বিতর্ক চলছে। এদিকে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়্যাল হলোওয়ের গবেষক সামের জাবেরের মতে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে তেমন পার্থক্য নেই।
তাই সরকার পরিবর্তন হলেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। বিদ্যমান বসতি ব্যবস্থার প্রতিও তাদের সমর্থন রয়েছে। পাশাপাশি, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও একই থাকবে। ফলে নতুন সরকার গঠিত হলেও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে কতটা অগ্রগতি হবে, তা অনিশ্চিত।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইয়াশার পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। দলটি নেসেটে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন। জরিপে টুগেদার জোটের ১৩টি, ইসরায়েল বেইতেইনুর ৯টি এবং ডেমোক্র্যাটস দলের ৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, চারটি বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে ৫৪টি আসন পেতে পারে। ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে সাতটি আসন পিছিয়ে থাকবে তারা।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এই জোটে কয়েকটি অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ও কট্টর ডানপন্থী দল রয়েছে। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। তবে ইহুদি-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশ নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রয় জুরের মতে, ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর জয়ের সুযোগ বাড়তে পারে।
তিনি ইসরায়েলি রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ ও নীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। জুর বলেন, নেতানিয়াহুর কঠোর বিরোধী নয়, এমন কয়েকটি দল সংসদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট নাও পেতে পারে। এতে আসন বণ্টনের হিসাব বদলে যেতে পারে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এসব দল যথেষ্টসংখ্যক ডানপন্থী ভোট পেতে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ভোটকে ক্ষমতায় রূপান্তরের সুযোগ পেতে পারে। তবে শুধু এতেই সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত হবে না।’
ফিলিস্তিন নীতিতে বড় পরিবর্তন কি সম্ভব?
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেও পশ্চিম তীর ও গাজা নিয়ে ইসরায়েলের নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা বিরোধী জোটের জন্য কঠিন হতে পারে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স পার্সন আল জাজিরাকে বলেন, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার গঠিত হলেও সেটি বিভিন্ন মতের দলের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব সামান্য হতে পারে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জোটের শরিকদের একমত হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষেও নতুন সরকারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা কঠিন হতে পারে। কারণ, বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলে জোট ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর সরকারকে পরাজিত করতে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও তাদের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনে আসনসংখ্যা, আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন কতটা সম্ভব হবে।
‘বেশিরভাগই ডানপন্থী’
মতপার্থক্য থাকলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতাই গাজা ও পশ্চিম তীরের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বলা যায়, এই জোট ক্ষমতায় এলেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে।
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি শক্তিশালী করার পক্ষে। তবে পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার বিরোধিতা করেন তিনি। ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ছোট ছোট বসতি ও চৌকি সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত ই-১ বসতি পরিকল্পনারও বিরোধী আইজেনকোট। সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়বে এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গাজার বিষয়ে আইজেনকোট যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে। তবে তাঁর মতে, তা করতে হবে ইসরায়েলের শক্তিশালী অবস্থান থেকে এবং হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার পর। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য তুলে ধরে।
নেতানিয়াহুর চেয়েও ডানপন্থী বেনেট
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন একাধিক সরকারে দায়িত্ব পালন করা নাফতালি বেনেট নিজেকে নেতানিয়াহুর চেয়েও ‘বেশি ডানপন্থী’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি গাজা নিয়ে কঠোর নীতির পক্ষে এবং অতীতে ইসরায়েলে প্রবেশের চেষ্টা করা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নীতির আহ্বান জানিয়েছেন।
বেনেট ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধী এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সমর্থক। তবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সমালোচনাও করেছেন তিনি।
গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে বেনেটের অবস্থান হলো, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তুরস্ক বা কাতারের পরিবর্তে মিশরকে ভূমিকা দেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দিয়েছেন।
পশ্চিম তীরের আরো ভূখণ্ড সংযুক্ত করতে চান লিবারম্যান
ইসরায়েল বেইতেইনু দলের প্রধান আভিগদর লিবারম্যানও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে। তাঁর দল ই-১ বসতি পরিকল্পনাকেও সমর্থন করে। লিবারম্যান পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত অংশের পুরোটাই ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে।
পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ইসরায়েলের পূর্ণ বেসামরিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের অন্যান্য অংশের নিয়ন্ত্রণ জর্ডানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
গাজার বিষয়ে তার দলের অবস্থান হলো, সেখানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালানোর স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। দলটি পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পক্ষে এবং শেষ পর্যন্ত গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি সম্মত আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে একমাত্র দল
ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটস পার্টি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ব্যতিক্রম। দলটি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের একটি রূপ সমর্থন করে। অর্থাৎ, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে সমর্থন করে তারা।
তবে দলটি এই ধারণাকে ‘দায়িত্বশীল বিচ্ছেদ’ হিসেবে বর্ণনা করে। তাদের প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং জর্ডান উপত্যকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। গাজার ক্ষেত্রেও দলটি সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার পক্ষে।
ফিলিস্তিনি আইনজীবী ও বিশ্লেষক ডায়ানা বুত্তুর মতে, নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটের নেতাদের অবস্থানেও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব নেতা পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকে সমর্থন করেন এবং ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ সমতার প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। এই রাজনৈতিক অবস্থানগুলো ইসরায়েলি সমাজে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সেপ্টেম্বর মাসের এক জরিপে মাত্র ১৭ শতাংশ ইসরায়েলি উত্তরদাতা বলেছেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। অন্যদিকে জিউইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের আগস্ট মাসের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইহুদি ইসরায়েলি উত্তরদাতাদের ৩৮ শতাংশ পুরো পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে।
অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বসতিগুলো বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এসব জরিপের ফল ইঙ্গিত দেয়, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করলেই ফিলিস্তিন প্রশ্নে উদার অবস্থান নেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলেও গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলের নীতিতে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ
বর্তমান সরকারের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সমর্থক। স্মোট্রিচ সম্প্রতি পশ্চিম তীরে গাজায় চালানো অভিযানের মতো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যানের মতে, নতুন সরকার পশ্চিম তীরে ই-১ বসতি প্রকল্প স্থগিত করতে পারে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। পাশাপাশি গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ সহজ করা ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ইহাব জাবরিনের মতে, নেতানিয়াহুবিরোধী সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে বেশি সাড়া দিতে পারে। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের সামগ্রিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আমজাদ ইরাকি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতির সামান্য পরিবর্তনও ফিলিস্তিনিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হলো ক্ষয়ক্ষতি কমানো। প্রতিটি জীবন বাঁচানো এবং প্রতিটি জমি রক্ষা করা সেখানকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’










