নিম্নমানের বই দিলে গ্রহণ করবেন না : শিক্ষামন্ত্রী
- Update Time : 02:03:45 pm, Saturday, 10 October 2026
- / 4 Time View
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রিন্টার্স নিম্নমানের বই সরবরাহ করলে তা গ্রহণ না করতে শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বইয়ের কাগজের মান, বাইন্ডিং ও অন্যান্য নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন ঠিক না থাকলে সেই বই নেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বই সরবরাহ করলেও তা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই তুলে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এবার স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা বন্ধ হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ জন্য মাদরাসাপ্রধানদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো প্রিন্টার্স নির্ধারিত মানের চেয়ে নিম্নমানের বই সরবরাহ করতে না পারে।
তিনি বলেন, অতীতে প্রিন্টার্সদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত মানের কাগজ ব্যবহার না করা এবং সময়মতো বই সরবরাহ না করার অভিযোগ ছিল। এবার প্রতিটি মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে নজর রাখতে হবে। প্রিন্টার্সদের ৯০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানোর পর সেগুলো পর্যালোচনা করে বাকি বিল পরিশোধ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এবার বাজারদর অনুযায়ী দরপত্র দেওয়া হয়েছে। তাই বই ছাপানোর কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রিন্টার্সরা যাতে কাজে ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান।
তিনি শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন। মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় মাদরাসা শিক্ষাকে আরো কার্যকর ও আধুনিক করার বিষয়ে কাজ হয়েছে। দাখিল ও আলিম পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষা চালু করা হয়। মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবসায় শিক্ষা, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদরাসাগুলোকে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়—সব প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার মানোন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন ও বিএনপি সরকারের লক্ষ্য দেশ গঠন এবং শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন না তিনি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সরকারকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিকল্প নেই।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।









