Dhaka 7:46 pm, Tuesday, 6 October 2026
সর্বশেষ
দেশে ধর্মের নামে বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা চাই না : রাষ্ট্রপতি ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচের একাদশে কারা আছেন, কোথায় দেখবেন হাজারো ছাত্র-শিক্ষকের মিছিলে উত্তাল ফ্রান্স অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি, দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা পুলিশ সদরদপ্তরে মিডিয়া বিভাগের এআইজির দায়িত্বে কামারুম মুনিরা প্রায় ১৩ হাজার শূন্যপদে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাধা নেই সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে কোটি টাকা ছাড় দেশের সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’ : সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন নাছির

সংঘাত নয়, বঙ্গোপসাগরকে সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:56:44 am, Monday, 5 October 2026
  • / 8 Time View

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করতে হবে। 

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যুক্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরিতে এর ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ চায়, বঙ্গোপসাগর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে থাকুক; এটি যেন কোনোভাবেই সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় উন্নয়নের অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখে না বাংলাদেশ। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা করা হবে।

আর মতপার্থক্য থাকলে সংলাপের মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা হবে। 

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে এখন আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের পণ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরো সক্রিয় হতে হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটকেও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াবে না, বরং তা গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংঘাত নয়, বঙ্গোপসাগরকে সহযোগিতার অঞ্চল করতে চায় বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির

Update Time : 10:56:44 am, Monday, 5 October 2026

বঙ্গোপসাগরকে সংঘাতের ক্ষেত্র না বানিয়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বও ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করতে হবে। 

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে যুক্ত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সমুদ্রপথ ও দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরিতে এর ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশ চায়, বঙ্গোপসাগর শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে থাকুক; এটি যেন কোনোভাবেই সংঘাতের মঞ্চে পরিণত না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি জাতীয় স্বার্থ। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জাতীয় উন্নয়নের অনুকূল আন্তর্জাতিক পরিবেশ তৈরি করাও এর লক্ষ্য। পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার বিষয় হিসেবে দেখে না বাংলাদেশ। যেখানে স্বার্থের মিল রয়েছে, সেখানে সহযোগিতা করা হবে।

আর মতপার্থক্য থাকলে সংলাপের মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা হবে। 

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক নীতিকে এখন আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাজার, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের বিষয়গুলো কূটনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের পণ্যের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে আরো সক্রিয় হতে হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, খাদ্য, জ্বালানি, পানি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তদেশীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকটকেও বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে শুধু মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সমাধান প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াবে না, বরং তা গঠনে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশকে শান্তির অংশীদার, আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্র, বিনিয়োগের গন্তব্য এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের দায়িত্বশীল কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।