Dhaka 6:05 pm, Sunday, 4 October 2026
সর্বশেষ
বাংলাদেশ থেকে বিনামূল্যে কত হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া জানালেন শ্রমমন্ত্রী মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক বললেন—‘আমি প্রস্তুত, তবে’ বসতভিটা না থাকা সেই মিশনের চাকরি চূড়ান্ত বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের তদবির না করতে এনবিআরের নির্দেশনা এলপিজির দাম বাড়ল, আজ থেকেই কার্যকর পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তার রদবদল সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে : প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের

শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:21:17 am, Sunday, 4 October 2026
  • / 2 Time View

শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্ম (ক্লেপ) এর সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এ আহ্বান জানান তারা। 

এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, আন্না মিনজ ও শওকত আরা আক্তার। এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, ক্লেপ-এর সদস্য এ কে এম মাকসুদ, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা, স্ক্যানের সহসভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমূখ।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। পথশিশুরাও যে একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার তিনি সেটি অনুধাবন করতে পেরেছেন। হয়তো তিনি একটি পরিসংখ্যান নিচ্ছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা করছেন। আমরা বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।

ছোট ছোট এসব মানবিক উদ্যোগগুলোকে যেন আমরা রাজনীতিকরণ না করি সেই অনুরোধ জানাই। 

দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও প্রয়োগের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনের প্রয়োগ যারা করবেন তারা অনেক সময় কম্প্রোমাইজড (আপস) হয়ে যান। প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেয় না। আমরা সবসময় রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনি। কিন্তু সরকারের নির্বাহী বিভাগে যারা কাজ করেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় না।

একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে নির্বাহী বিভাগের কাজের কড়া সমালোচনা ও তদারকি করতে হবে। 

বিগত সরকারের আমলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করছে বলে জানান ইঞ্জিনিয়িার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বলেন, সরকার শিশুশ্রম নিরসনের সময়সীমা নতুন করে ২০৩০ সাল নির্ধারণ করে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম বন্ধ করার বিষয়ে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, বর্তমানে শিশুদের জন্য ৪৩টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে। শিশুশ্রম বন্ধের পাশাপাশি তাদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে এম এ করিম বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনানুষ্ঠানিক খাত। দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু বিভিন্ন ছোট কারখানা, ওয়ার্কশপ, দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নির্মাণ ও গৃহকর্মের মতো কাজে যুক্ত থাকে। এসব কর্মক্ষেত্রের অনেকগুলোই নিয়মিত নজরদারির বাইরে থাকে। ফলে শিশুকে কাজ থেকে সরিয়ে আনার পাশাপাশি তার পরিবারের আয়-নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে একই শিশু কিংবা পরিবারের অন্য শিশুর আবার শ্রমে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বিকল্প আয় সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসন কর্মসূচিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

শিশুশ্রম নিরসনে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে গুরুত্বারোপ আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞদের

Update Time : 10:21:17 am, Sunday, 4 October 2026

শিশুশ্রম নিরসনে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্ম (ক্লেপ) এর সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এ আহ্বান জানান তারা। 

এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, আন্না মিনজ ও শওকত আরা আক্তার। এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরো বক্তৃতা করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, ক্লেপ-এর সদস্য এ কে এম মাকসুদ, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা, স্ক্যানের সহসভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমূখ।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। পথশিশুরাও যে একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার তিনি সেটি অনুধাবন করতে পেরেছেন। হয়তো তিনি একটি পরিসংখ্যান নিচ্ছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা করছেন। আমরা বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।

ছোট ছোট এসব মানবিক উদ্যোগগুলোকে যেন আমরা রাজনীতিকরণ না করি সেই অনুরোধ জানাই। 

দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও প্রয়োগের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আইনের প্রয়োগ যারা করবেন তারা অনেক সময় কম্প্রোমাইজড (আপস) হয়ে যান। প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নেয় না। আমরা সবসময় রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনি। কিন্তু সরকারের নির্বাহী বিভাগে যারা কাজ করেন, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয় না।

একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র পেতে হলে নির্বাহী বিভাগের কাজের কড়া সমালোচনা ও তদারকি করতে হবে। 

বিগত সরকারের আমলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও এবার বাস্তবায়ন, সমন্বয় ও নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করছে বলে জানান ইঞ্জিনিয়িার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বলেন, সরকার শিশুশ্রম নিরসনের সময়সীমা নতুন করে ২০৩০ সাল নির্ধারণ করে পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এতে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ও অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশুশ্রম বন্ধ করার বিষয়ে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, বর্তমানে শিশুদের জন্য ৪৩টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে। শ্রম অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ বন্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে। শিশুশ্রম বন্ধের পাশাপাশি তাদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

সভাপতির বক্তব্যে এম এ করিম বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনানুষ্ঠানিক খাত। দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু বিভিন্ন ছোট কারখানা, ওয়ার্কশপ, দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নির্মাণ ও গৃহকর্মের মতো কাজে যুক্ত থাকে। এসব কর্মক্ষেত্রের অনেকগুলোই নিয়মিত নজরদারির বাইরে থাকে। ফলে শিশুকে কাজ থেকে সরিয়ে আনার পাশাপাশি তার পরিবারের আয়-নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে একই শিশু কিংবা পরিবারের অন্য শিশুর আবার শ্রমে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বিকল্প আয় সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে শিশুশ্রম নিরসন কর্মসূচিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।