ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
- Update Time : 05:51:40 am, Friday, 2 October 2026
- / 8 Time View
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মো. খলিলুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুমন মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নে সাহিতপুর বাজারে ওই ব্যবসায়ীর নিজস্ব দোকানে ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ খলিলুর উপজেলার চেংজানা গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সাহিতপুর বাজারে মনোহারি সামগ্রীর ব্যবসার পাশাপাশি বোতলে করে পেট্রল বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযুক্ত সুমন মিয়া একই গ্রামের মৃত কাদেনামাজের ছেলে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় খলিলুর রহমান প্রতিদিনের মতো তার দোকানে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ অভিযুক্ত সুমন মিয়া ‘নেশাগ্রস্ত অবস্থায়’ দোকানে প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুমন দোকানের সামনে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা একটি দুই লিটারের বোতলজাত পেট্রল হাতে নেন। এসময় খলিলুর বাধা দিলে সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে পেট্রল তার শরীরে ঢেলে দিয়ে দেয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন খলিলুর রহমানের পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানের ভেতরেও আগুন লেগে যায়। তার চিৎকারে বাজারের নৈশপ্রহরী ও আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দ্রুত খলিলুরের গায়ের আগুন নেভান এবং দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে দোকানের ভেতরে থাকা মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় খলিলুরকে রাত ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে তার শরীরের একটি বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় এবং অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোরে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কেন্দুয়া থানার ওসি জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








