জাজিরায় রান্নাঘরে ককটেল বিস্ফোরণের ১৪ দিন পর গৃহবধূর মৃত্যু
- Update Time : 12:37:57 pm, Saturday, 19 September 2026
- / 3 Time View
শরীয়তপুরের জাজিরায় রান্নাঘরে মজুদ করে রাখা ককটেল বিস্ফোরণে আহত রোকেয়া বেগম (৪০) মারা গেছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নসংলগ্ন সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এতে একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত ৭০ বছর বয়সী মান্নান সরদার মারা যান। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে।
পরে ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে রান্না করতে রান্নাঘরে ঢোকেন ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
ফারুক ছৈয়াল মূলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ সময় রান্নাঘরে রাখা ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে পাশের বাঁশঝাড়ে গিয়ে পড়ে। এতে সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের দুটি বসতঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান। এরপর থেকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এ ব্যাপারে ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক হিমেল আহমেদ বলেন, রোকেয়া বেগম নামের নারী আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বজনেরা তার মরদেহ নিয়ে গেছেন। আজ সকাল ১০টার দিকে মারা যান তিনি। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, রোকেয়া বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র এখনো থানায় আসেনি।
ওসি বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






