Dhaka 7:11 pm, Friday, 18 September 2026
সর্বশেষ
রাজধানীতে মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে ঢাকা, যা বলল ভারত মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলা, পুলিশসহ নিহত বেড়ে ১৬ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান, ধন্যবাদ দিলেন মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক হার্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখন বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না : আইনমন্ত্রী

জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:40:09 pm, Friday, 18 September 2026
  • / 3 Time View

সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না, এমন অবস্থান জামায়াত মেনে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক একাত্তরের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা জামায়াত মেনে নিলে অনেক প্রশ্নেরই সমাধান হয়ে যেত। আইন অঙ্গনে এখনো প্রাসঙ্গিক আব্দুর রাজ্জাক।

তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে জামায়াতের আইনজীবীদের উপস্থিত না থাকার সমালোচনাও করেন আইনমন্ত্রী। এদিকে, জামায়াতের ভিতরে অনেক রিফর্মেশন করার বিষয় আছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী।

আবদুর রাজ্জাকের বইটি তার কাছে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং একটি সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।

বইটির আলোচনায় উঠে আসা আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে। 

বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই অবস্থান আরো আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তার সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল। 

আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করেছিলেন।

আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সাথে সাক্ষাৎ করে চা পান করেছেন, কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না : আইনমন্ত্রী

Update Time : 12:40:09 pm, Friday, 18 September 2026

সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না, এমন অবস্থান জামায়াত মেনে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, ব্যারিস্টার রাজ্জাক একাত্তরের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা জামায়াত মেনে নিলে অনেক প্রশ্নেরই সমাধান হয়ে যেত। আইন অঙ্গনে এখনো প্রাসঙ্গিক আব্দুর রাজ্জাক।

তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে জামায়াতের আইনজীবীদের উপস্থিত না থাকার সমালোচনাও করেন আইনমন্ত্রী। এদিকে, জামায়াতের ভিতরে অনেক রিফর্মেশন করার বিষয় আছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী।

আবদুর রাজ্জাকের বইটি তার কাছে শুধু সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী গ্রন্থ নয় উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একজন মানুষের জীবনদর্শন, চিন্তা, চেতনা এবং একটি সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। বইটিতে আবদুর রাজ্জাকের চিন্তা ও দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে।

বইটির আলোচনায় উঠে আসা আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওপর থেকে কোনো ইসলামিক শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সঠিক পথ।

নতুন প্রজন্মের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে সমাজকে পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান একটি প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে। 

বইটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান এবং জাতির কাছে দেওয়া বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সেই অবস্থান আরো আগে স্পষ্টভাবে সামনে এলে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের অবসান হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুর রাজ্জাকের সাংগঠনিক ভূমিকা প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তার কর্ম, চিন্তা, দর্শন ও আদর্শের কারণে তিনি নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

সমাজ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার প্রতি যে শ্রদ্ধা ছিল, তা তার সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও বড় ছিল। 

আবদুর রাজ্জাক মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে মানবাধিকারের বিষয়কে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার একটি মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচনা করেছিলেন।

আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, লন্ডনে গেলে কখনো তার সাথে সাক্ষাৎ করে চা পান করেছেন, কখনো টেলিফোনে কথা বলেছেন। জীবনের শেষ দিকে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।