Dhaka 12:01 am, Saturday, 19 September 2026
সর্বশেষ
কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরে জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত রাজধানীতে মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে ঢাকা, যা বলল ভারত মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলা, পুলিশসহ নিহত বেড়ে ১৬ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান, ধন্যবাদ দিলেন মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক হার্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখন বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

ইসরায়েল পাবে ২৮০ কোটি ডলারের গোলাবারুদ, থাকছে ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতার বোমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:38:49 pm, Thursday, 17 September 2026
  • / 9 Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার (২.৮ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এ তথ্য জানিয়েছেন অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তা।

পরিকল্পিত এই অস্ত্র প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে ৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে আরো ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড রয়েছে। অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কথা বলা ওই মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সব বিদেশে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে চূড়ান্ত হয়নি এমন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা মন্তব্য করেন না। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে নিয়মিত  দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে। এসব বোমার ব্যবহার নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বোমা ব্যবহার করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

কারণ এসব বোমা পুরো ভবন ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। 

২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের জন্য দুই হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বোমার চালান আবার শুরু হয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে সাবেক এক মার্কিন সেনা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল এ ধরনের বোমা অনেক বেশি ব্যবহার করতে পছন্দ করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ভবনের ভেতরে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর সদস্য থাকলে এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটি ধসিয়ে দিতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, গাজা এবং কিছুটা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে, তাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুরুতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু সত্যিই বৈধ সামরিক লক্ষ্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইসরায়েল কোন কোন স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বলে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। দেশটির দাবি, তাদের হামলার উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করা এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসরায়েল পাবে ২৮০ কোটি ডলারের গোলাবারুদ, থাকছে ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতার বোমা

Update Time : 12:38:49 pm, Thursday, 17 September 2026

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২৮০ কোটি ডলার (২.৮ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রির পরিকল্পনা করছে। এ তথ্য জানিয়েছেন অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তা।

পরিকল্পিত এই অস্ত্র প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে ৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজটিতে আরো ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড রয়েছে। অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কথা বলা ওই মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সব বিদেশে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবই নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে চূড়ান্ত হয়নি এমন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে তারা মন্তব্য করেন না। এদিকে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে নিয়মিত  দুই হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা ব্যবহার করেছে। এসব বোমার ব্যবহার নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের বোমা ব্যবহার করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

কারণ এসব বোমা পুরো ভবন ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। 

২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের জন্য দুই হাজার পাউন্ডের বোমার একটি চালান সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বোমার চালান আবার শুরু হয়।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে সাবেক এক মার্কিন সেনা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইসরায়েল এ ধরনের বোমা অনেক বেশি ব্যবহার করতে পছন্দ করে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ভবনের ভেতরে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর সদস্য থাকলে এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটি ধসিয়ে দিতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, গাজা এবং কিছুটা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে, তাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুরুতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু সত্যিই বৈধ সামরিক লক্ষ্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইসরায়েল কোন কোন স্থাপনাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল বলে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। দেশটির দাবি, তাদের হামলার উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা করা এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।