Dhaka 1:19 am, Saturday, 19 September 2026
সর্বশেষ
রাশেদের শিরোপা, উইল চপের জয়—জেডএফসি-২-তে জমজমাট লড়াই কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরে জাঁকজমকপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত রাজধানীতে মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে ঢাকা, যা বলল ভারত মসজিদে জুমার নামাজে বোমা হামলা, পুলিশসহ নিহত বেড়ে ১৬ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন সোমবার জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান, ধন্যবাদ দিলেন মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট-পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র কারাগার থেকে গৃহবন্দি হচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক হার্টের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখন বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না

চাঁদের আশপাশেও সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:44:05 pm, Thursday, 17 September 2026
  • / 11 Time View

মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি আরো বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার শুধু পৃথিবীর কক্ষপথে নয়, চাঁদের আশপাশের এলাকাতেও সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশনীতি ও সামরিক পরিকল্পনায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

এর কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এর পরই দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এখন থেকেই এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তারা সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশ পর্যন্ত এলাকায় লড়াই করতে, টিকে থাকতে এবং প্রয়োজন হলে জয়ী হতে পারে।

বুধবার ওয়াশিংটনের বাইরে আয়োজিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কেইন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের জন্য নতুন একটি সীমান্ত তৈরি হচ্ছে এবং সেই বাস্তবতার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননও মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, স্পেস ফোর্স এখন মহাকাশ ও চাঁদের আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্যাগননের ভাষায়, মানবজাতি মহাকাশের আরো গভীরে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সেই নতুন পরিবেশে প্রস্তুত থাকাই স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব। এর আগে একই সম্মেলনে বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ‘কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে। গ্যাগননের বক্তব্যটি ওই ঘোষণার পরই আসে। তবে ওই অস্ত্র কী ধরনের, কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের কথাও উল্লেখ করেছেন। গ্যাগনন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে যুদ্ধকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকেও সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, চীনের মতো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।  ২০২৪ সালে চীন নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। তখন বেইজিং জানিয়েছিল, মহাকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা নিয়ে চীনের অবস্থান জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে। বেইজিং মহাকাশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং মহাকাশে অস্ত্রায়ন, সামরিকীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন বা চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশই স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে হবে। চুক্তিতে মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র এবং অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো কোনো বস্তু বা মহাকাশযানের কারণে ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তার দায় নিতে হবে। তবে চুক্তিতে মহাকাশে সব ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা চুক্তির কোন কোন সীমার মধ্যে পড়ে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে এসব পরীক্ষা পৃথিবী থেকে পরিচালিত হয়েছে। এসব পরীক্ষায় সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এবারের বক্তব্যের সঙ্গে পার্থক্য হলো, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা শুধু পৃথিবীর কক্ষপথের কথা বলছেন না। তারা চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর ফলে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরো বিস্তৃত হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মহাকাশে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। দুই বছর আগে জাতিসংঘেও মহাকাশের সামরিকীকরণ ঠেকাতে ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়া মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র তৈরি করছে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও মোতায়েন না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জাতিসংঘে একটি যৌথ প্রস্তাবও দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে এ ধরনের অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে রাশিয়া ওই প্রস্তাবে ভেটো দেয়। এর পাল্টা হিসেবে রাশিয়াও একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র ‘চিরকালের জন্য’ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবও পাস হয়নি। মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

গ্যাগনন জানান, আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে পৌঁছাবে। বাড়তি সদস্যদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে। গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করছে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার মতো সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা। তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স মহাকাশের সব এলাকায় নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাবে। তবে মহাকাশে গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে স্পেস ফোর্সের নির্দিষ্ট নীতি কী—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চাঁদের আশপাশেও সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : 12:44:05 pm, Thursday, 17 September 2026

মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি আরো বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার শুধু পৃথিবীর কক্ষপথে নয়, চাঁদের আশপাশের এলাকাতেও সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরির কথা জানিয়েছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশনীতি ও সামরিক পরিকল্পনায় এটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

এর কয়েক দিন আগে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এর পরই দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে উল্লেখ করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এখন থেকেই এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তারা সমুদ্রের তলদেশ থেকে শুরু করে চাঁদের কক্ষপথের আশপাশ পর্যন্ত এলাকায় লড়াই করতে, টিকে থাকতে এবং প্রয়োজন হলে জয়ী হতে পারে।

বুধবার ওয়াশিংটনের বাইরে আয়োজিত বিমান, মহাকাশ ও সাইবারবিষয়ক একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় কেইন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের জন্য নতুন একটি সীমান্ত তৈরি হচ্ছে এবং সেই বাস্তবতার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননও মহাকাশে সামরিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, স্পেস ফোর্স এখন মহাকাশ ও চাঁদের আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্যাগননের ভাষায়, মানবজাতি মহাকাশের আরো গভীরে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য সেই নতুন পরিবেশে প্রস্তুত থাকাই স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব। এর আগে একই সম্মেলনে বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইংক জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে ‘কক্ষপথে থাকা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র’ মোতায়েন করেছে। গ্যাগননের বক্তব্যটি ওই ঘোষণার পরই আসে। তবে ওই অস্ত্র কী ধরনের, কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে চীনের কথাও উল্লেখ করেছেন। গ্যাগনন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যতে যুদ্ধকে মহাকাশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকেও সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তিনি বলেন, চীনের মতো সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা মহাকাশব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।  ২০২৪ সালে চীন নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গঠন করে। তখন বেইজিং জানিয়েছিল, মহাকাশসংক্রান্ত বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা নিয়ে চীনের অবস্থান জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে। বেইজিং মহাকাশের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং মহাকাশে অস্ত্রায়ন, সামরিকীকরণ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন বা চাঁদের আশপাশে সামরিক অভিযান চালানোর কোনো পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—দুই দেশই স্বাক্ষর করেছে। ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, চাঁদসহ মহাজাগতিক বস্তুগুলো শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে হবে। চুক্তিতে মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র এবং অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। একই সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো কোনো বস্তু বা মহাকাশযানের কারণে ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তার দায় নিতে হবে। তবে চুক্তিতে মহাকাশে সব ধরনের প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একই ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক সক্ষমতা ও পরিকল্পনা চুক্তির কোন কোন সীমার মধ্যে পড়ে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংস করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে এসব পরীক্ষা পৃথিবী থেকে পরিচালিত হয়েছে। এসব পরীক্ষায় সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এবারের বক্তব্যের সঙ্গে পার্থক্য হলো, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা শুধু পৃথিবীর কক্ষপথের কথা বলছেন না। তারা চাঁদের আশপাশের মহাকাশকেও ভবিষ্যৎ সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর ফলে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরো বিস্তৃত হতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মহাকাশে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা ঠেকানোর চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। দুই বছর আগে জাতিসংঘেও মহাকাশের সামরিকীকরণ ঠেকাতে ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়া মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র তৈরি করছে। মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি ও মোতায়েন না করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান জাতিসংঘে একটি যৌথ প্রস্তাবও দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে এ ধরনের অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে রাশিয়া ওই প্রস্তাবে ভেটো দেয়। এর পাল্টা হিসেবে রাশিয়াও একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে মহাকাশে সব ধরনের অস্ত্র ‘চিরকালের জন্য’ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবও পাস হয়নি। মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

গ্যাগনন জানান, আগামী পাঁচ বছরে স্পেস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এতে সদস্যসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে পৌঁছাবে। বাড়তি সদস্যদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডে যুক্ত করা হবে। গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করছে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার মতো সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা। তবে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তির সীমারেখা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যাগনন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স মহাকাশের সব এলাকায় নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাবে। তবে মহাকাশে গুলি, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে স্পেস ফোর্সের নির্দিষ্ট নীতি কী—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।