২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের জন্ম
- Update Time : 09:51:37 am, Saturday, 12 September 2026
- / 1 Time View
একমাত্র সন্তানকে হারানোর শোকের মধ্যে ২২ বছর ধরে হিমায়িত করে রাখা একটি ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন গ্রিসের ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি। গত বছরের অক্টোবরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ বছর বয়সী ছেলে জর্জোসকে হারান ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী।
ছেলেকে হারানোর পর আবার সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ জন্য বহু বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতির সাহায্য নেন।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একটি হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। নবজাতকের ওজন ৩ দশমিক ৪৯ কেজি।
প্রয়াত ছেলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে ‘জর্জিয়া’। তার প্রয়াত ছেলে জর্জোসও আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তবে এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্রিস্টিনার হাতে সময় ছিল খুব কম। গ্রিসে নারীদের আইভিএফ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বয়সসীমা ৫৪ বছর।
তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়েছে। শুক্রবার গোলাপি বেলুন ও ফুল দিয়ে সাজানো হাসপাতালের কক্ষে নবজাতককে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নতুন বাবা-মা।
২২ বছরেরও বেশি সময় আগে হিমায়িত করে রাখা একটি ভ্রূণ থেকেই শিশুটির জন্ম হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা ভ্রূণ ব্যবহার করে গর্ভধারণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। হাসপাতালের বিছানায় বসে রাপ্তি-তজেলেপি বলেন, ‘আমরা জীবনকে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলাম এবং আমাদের ঘরে আবার নতুন প্রাণের আগমন ঘটাতে চেয়েছিলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার একটাই চাওয়া, সে যেন সুস্থ ও সুখী হয়ে বেড়ে ওঠে এবং আমাদের প্রথম সন্তানের মতো আনন্দময় জীবন পায়। আমাদের প্রথম সন্তানও আমাদের ঘর হাসি-আনন্দে ভরিয়ে রেখেছিল।’
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর এক দম্পতি ৩০ বছরেরও বেশি সময় হিমায়িত থাকা একটি ভ্রূণ থেকে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। ‘এমব্রায়ো অ্যাডপশন’ বা ভ্রূণ দত্তক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ওই শিশুর ঘটনা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃতি পায়। রাপ্তি-তজেলেপির চিকিৎসক এবং হেলেনিক সোসাইটি অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনের প্রধান ডা. কোস্টাস প্যান্টোস গ্রিসে জন্মহার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে দেশটির আইভিএফ-সংক্রান্ত বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বসবাসকারী প্যান্টোস বলেন, গ্রিসের আইন খুবই কঠোর। ৫৪ বছর বয়স পার হলেই আইভিএফের অনুমতি দেওয়া হয় না। তার মতে, সময় এসেছে এই নিয়ম পরিবর্তনের। তিনি বলেন, সন্তান নেওয়ার এই সুযোগ থেকে বাবা-মাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
৬০ বছর বয়সী শিশুটির বাবা কনস্টান্টিনোস রাপ্তিস মেয়েকে কোলে নিয়ে ছিলেন। সাদা পোশাকে মোড়ানো শিশুটি তখন তার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল। তিনি বলেন, চিকিৎসকের প্রতি তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। কারণ, চিকিৎসকের সহায়তায় তাদের পরিবার আবারও নতুন করে আশা ও আনন্দ ফিরে পেয়েছে।
রাপ্তিস বলেন, ‘তিনি আমাদের হাত ধরে গভীর অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন। আমরা সেই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন মনে হচ্ছে, আমাদের সামনে বেঁচে থাকার অনেক কারণ আছে।’ প্রয়াত ছেলে জিওর্গোসের স্মরণে দম্পতি তাদের মেয়ের নাম রেখেছেন জর্জিয়া। তাদের ছেলে জিওর্গোসও আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তবে ভবিষ্যতে আরও একটি সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তারা। প্রয়োজনে এ জন্য বিদেশে যাওয়ার কথাও ভাবছেন এই দম্পতি।