Dhaka 4:27 pm, Saturday, 12 September 2026
সর্বশেষ
বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার ধানমণ্ডিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল করাই নেতাকর্মীদের প্রধান দায়িত্ব : রিজভী জেলায় জেলায় কৃষিক্ষেতে কমলগঞ্জের টমেটোর চারা ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির বৈঠক জামায়াতের কারণে আওয়ামী লীগ বিক্ষোভের সাহস পাচ্ছে : রাশেদ খান হুমায়ুন কবিরের ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে টালবাহনা ভারতের আদানির! রামপালের কয়লা কেনাকাটায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সাবেক অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী আর নেই ২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের জন্ম

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:03:01 am, Saturday, 12 September 2026
  • / 0 Time View

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার দুই নেতার এই বৈঠকে ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ভিয়েতনাম ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশের একটি। ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের মূল স্লোগান হলো ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তিকে এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় মঞ্চেও ভারত ও ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব ভিয়েতনাম জানিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করার সুযোগ হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনকে দেখছে হ্যানয়। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো বাড়াতে চায় দেশটি। 

ব্রিকস সম্মেলনে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার দেশের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত আসেন।

ওই সফরে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করতে সম্মত হয়। দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত মিল এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছাকে আরো বাস্তব এবং দৃশ্যমান সহযোগিতায় রূপ দেওয়া। এর ফলে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-ভিয়েতনাম সহযোগিতা আরো বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। মালয়েশিয়া ও ইথিওপিয়া- দুই দেশই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন মোদি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বিভাজন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব নিয়েছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিকসের সম্প্রসারিত সদস্য ও অংশীদারদের নিয়ে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তব ফলাফল তৈরি করা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

ব্রিকসের বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যবস্থা ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করাও এবারের সভাপতিত্বের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এগুলো হলো- ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এগুলো হলো- নাইজেরিয়া, বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোদির বৈঠক

Update Time : 10:03:01 am, Saturday, 12 September 2026

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার দুই নেতার এই বৈঠকে ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

ভিয়েতনাম ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশের একটি। ভারতের সভাপতিত্বে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের মূল স্লোগান হলো ‘স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’। উন্নয়ন, টেকসই ব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তিকে এবারের সম্মেলনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা শুধু ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আর্থিক প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় মঞ্চেও ভারত ও ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব ভিয়েতনাম জানিয়েছে, ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করার সুযোগ হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনকে দেখছে হ্যানয়। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো বাড়াতে চায় দেশটি। 

ব্রিকস সম্মেলনে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার দেশের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত আসেন।

ওই সফরে দুই দেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘উন্নত বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করতে সম্মত হয়। দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশলগত মিল এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সদিচ্ছাকে আরো বাস্তব এবং দৃশ্যমান সহযোগিতায় রূপ দেওয়া। এর ফলে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত-ভিয়েতনাম সহযোগিতা আরো বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে শনিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলীর সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং আবুধাবির যুবরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। মালয়েশিয়া ও ইথিওপিয়া- দুই দেশই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন মোদি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বিভাজন, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপের মধ্যে ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব নিয়েছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রিকসের সম্প্রসারিত সদস্য ও অংশীদারদের নিয়ে কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাস্তব ফলাফল তৈরি করা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

ব্রিকসের বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যবস্থা ও কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করাও এবারের সভাপতিত্বের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ। এগুলো হলো- ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর বাইরে ব্রিকসের ১০টি অংশীদার দেশ রয়েছে। এগুলো হলো- নাইজেরিয়া, বেলারুশ, বলিভিয়া, কিউবা, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।