সিপিডির নেতৃত্ব ছাড়লেও গবেষণা ও নীতিসংলাপে থাকছেন ফাহমিদা খাতুন
- Update Time : 01:57:42 pm, Saturday, 12 September 2026
- / 2 Time View
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সাড়ে নয় বছরের দায়িত্ব শেষ করেছেন ড. ফাহমিদা খাতুন। তবে সিপিডির সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না।
এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির ‘সম্মাননীয় ফেলো’ হিসেবে গবেষণা, গবেষণা দল ও প্রকল্প পরিচালনা, নীতিসংলাপ এবং অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তরুণ গবেষকদের পরামর্শ দেওয়ার কাজে যুক্ত থাকবেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সিপিডির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বিদায়ি বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফাহমিদা খাতুন। ২০১৭ সালের ১ মার্চ তিনি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে প্রায় ২৩ বছর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বিভিন্নভাবে কাজ করেছেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সিপিডির মতো একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি দায়িত্ব। তিনি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার নিয়ে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
তার দায়িত্বকালে বিভিন্ন দৃশ্যমান ও অদৃশ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সিপিডির বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ধরে রাখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফাহমিদা খাতুন বলেন, গবেষণা ও নীতিবিশ্লেষণের কাজ করতে গিয়ে সিপিডির কর্মীদের সঙ্গে দিনের পর দিন, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা, জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন তৈরিতে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন।
দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও নানা চাপের মধ্যেও সবার অভিন্ন বিশ্বাস ছিল—নির্ভরযোগ্য গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও গঠনমূলক নীতিসংলাপ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
নীতিনির্ধারক ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সিপিডির বিভিন্ন সংলাপ ও গবেষণার ফলাফল নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানের কাজকে আরো অর্থবহ করেছে।
দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সিপিডির বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার প্রতি অংশীদারদের আস্থা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সিপিডির গবেষণা ও বিশ্লেষণকে সম্মেলনকক্ষ ও প্রকাশনার বাইরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে গণমাধ্যম। অর্থনীতি ও সমাজের নানা জটিল বিষয়কে জাতীয় আলোচনার অংশ করে তুলতেও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সিপিডির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, দলীয় রাজনীতির বাইরে সাহসী, সমালোচনামূলক কিন্তু নৈরাশ্যবাদী নয় এবং স্বাধীন কিন্তু বিচ্ছিন্ন নয়—এমন অবস্থান ধরে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। তথ্য ও প্রমাণের মূল্য থাকবে, ভিন্নমতকে স্বাগত জানানো হবে এবং কঠিন প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হবে না—সিপিডিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই এগিয়ে যেতে হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সত্য যে কঠিন’ কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সত্যের অনুসন্ধান অনেক সময় কঠিন ও অস্বস্তিকর হতে পারে। তবে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তখনই জনআস্থা অর্জন করে, যখন সুবিধার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণ এবং সাময়িক স্বার্থের পরিবর্তে সততাকে অগ্রাধিকার দেয়।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও সিপিডির সঙ্গে তার যাত্রা শেষ হচ্ছে না। নতুন দায়িত্বে তিনি আগের মতোই গবেষণা ও নীতিসংলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।