রেল, চিনিকল ও চা বাগানের জমি সোলারের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব
- Update Time : 12:52:32 pm, Saturday, 12 September 2026
- / 8 Time View
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং পরিচ্ছন্ন ও ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শনিবার (১২ জুলাই) সিরডাপ মিলনায়তনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা প্রযুক্তি নয়, পরিবর্তনের মানসিকতা। বিদ্যুৎকেন্দ্র বলতে আমাদের প্রচলিত ধারণায় এখনো থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টই ভেসে ওঠে। এই মানসিকতা বদলাতে হবে।
মাতারবাড়ীর মতো বিদ্যমান জমি কাজে লাগিয়ে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এখন প্রয়োজন পরিবর্তনের বাধা ভেঙে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এ মুহূর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির কোনো বিকল্প নেই। তবে বিকল্প নেই বলে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
আমাদের এখানে বছরে কত দিন এবং কত ঘণ্টা সূর্যের আলো পাওয়া যায়, তা বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিকল্পনা করতে হবে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গত ছয় মাসে দেশে সোলারে যে অগ্রগতি হয়েছে, আগের ১৫ বছরে তা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিংবা বর্তমান জ্বালানি সংকট, যে কারণেই হোক, সৌরবিদ্যুতের জন্য এটি একটি সুযোগ তৈরি করেছে। দেশে এখনো সোলার স্থাপনের জন্য প্রচুর জমি রয়েছে। এক্ষেত্রে রেলের জমি, চিনিকলের জমি ও চা বাগান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মুনাফার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানসম্মত ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে নিজেদের জ্বালানি নিজেদেরই উৎপাদন করতে হবে।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য অর্জনে এখনই সুস্পষ্ট পথনকশা, কার্যকর পদক্ষেপ ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। এই পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, সবার দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ ও অঙ্গীকার থেকে ৩৭টি সংগঠন যৌথভাবে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শিরোনামে বিশেষ প্রচারাভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সংকটের সমাধানে পাইপলাইনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগের বিষয় রয়েছে। তাই এলএনজি আমদানিতে নির্ভরশীলতা না বাড়িয়ে আগামী তিন-চার বছরের মধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে হবে।
অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করার পাশাপাশি বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে। দূষণের কারণে সোলার প্যানেলে ধুলার স্তর জমে কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে দূষণ কমানো গেলে সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন দুটিই বাড়বে।
কর্মসূচিতে আরো বক্তৃতা করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)’র বাংলাদেশবিষয়ক লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, হাওর অঞ্চলবাসী সমন্বয়কারী জাকিয়া শিশির, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ।
২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাসব্যাপী এ প্রচারাভিযানের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সাইকেল ও নৌ-র্যালি, সড়ক শোভাযাত্রা, উপকূলীয় পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সেমিনার ও জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে উপকূলীয় পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রাও শুরু হয়। বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাশফিকুল হাসান টনির হাতে প্রচারাভিযানের ব্যানার তুলে দেওয়া হয়।