ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল : গ্রেপ্তার আ. লীগ নেতা অজিত রিমান্ডে
- Update Time : 12:54:31 pm, Saturday, 12 September 2026
- / 6 Time View
রাজধানীর কোতোয়ালি থানাধীন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকার কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক অজিত ঘোষ কানাইকে (৬২) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক ইবনে খালিদ হোসেন। ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে অজিত ঘোষ কানাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রযেছে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার লক্ষ্যে তার সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মানিক লাল ঘোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ দিন আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন অপরদিকে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন গোয়ালনগর এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই কোতয়ালী থানার রায়সাহেব বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদে জানতে পারে, মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যান্টিন গেটের সামনে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জন সমবেত হয়েছে। ওইদিন আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় অভিযোগ গঠন এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি ছিল।
এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সমবেত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে আটক করা হয়।
এ সময় অজিত ঘোষ কানাইসহ অন্যরা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযোগে আরো বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একত্রিত হয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর উদ্দেশ্যে সরকার বিরোধী স্লোগান ও সমাবেশের আয়োজনের চেষ্টা করেন। তাদের কর্মকাণ্ডে জননিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রযেছে। ওই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।