Dhaka 7:51 pm, Friday, 11 September 2026
সর্বশেষ
হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক নারী কণ্ঠে ‘আকামা নবায়ন’ ফাঁদে ফেলতেন তারা আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে জবি ছাত্রলীগের মিছিল ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, সিদ্ধান্ত শিগগিরই ড্রোন হামলার পর মিয়ানমারের মান্দালয়ে বিমানবন্দর বন্ধ রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ শনিবার ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে নিজ আসনে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান প্রধানমন্ত্রীর

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:25:50 pm, Friday, 11 September 2026
  • / 2 Time View

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। হাসপাতালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই মরদেহ ফেলে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যান তিনি।

মোরসেলিম বাড়িতে পৌঁছাতেই স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে।

তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে। 

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিয়াম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে স্ত্রী শাহিনাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক ইসিজি  করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর পরই সিয়াম প্রাইভেট কার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিহতের মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণার পরপরই সিয়ামের আচরণ  লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি প্রাইভেট কার নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন সিয়াম। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর শাহিনা ও সিয়াম পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে সিয়াম প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।’

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, ‘স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টার ঘটনায় মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে পুরনো একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক

Update Time : 12:25:50 pm, Friday, 11 September 2026

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান মোরসেলিম আকাশ সিয়াম। হাসপাতালে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই মরদেহ ফেলে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যান তিনি।

মোরসেলিম বাড়িতে পৌঁছাতেই স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহিনা আক্তার (২২) সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের মৃত শাহাজাদা মিয়ার মেয়ে।

তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত সিয়াম উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মাজহারুল ইসলাম মিতুর ছেলে। 

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিয়াম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে স্ত্রী শাহিনাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক ইসিজি  করে শাহিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর পরই সিয়াম প্রাইভেট কার চালিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিহতের মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। অন্যদিকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সিয়াম নিজ এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘চিকিৎসক ওই নারীকে মৃত ঘোষণার পরপরই সিয়ামের আচরণ  লোকজনের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি প্রাইভেট কার নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

নিহতের মা রহিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন সিয়াম। তার দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাহিনাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিনও শাহিনাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাহিনার চাচা মাজিদুর রহমানও একই অভিযোগ করেন। তিনি জানান, কয়েক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের পর শাহিনা ও সিয়াম পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদের আয়াশ (৪) ও আয়াত (১) নামে দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে সিয়াম প্রায়ই শাহিনাকে মারধর করতেন এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামা তাবাসসুম বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই শাহিনার মৃত্যু হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।’

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন, ‘স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে পালানোর চেষ্টার ঘটনায় মোরসেলিম আকাশ সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে পুরনো একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে গলায় ফাঁস লাগার বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’