Dhaka 9:33 pm, Friday, 11 September 2026
সর্বশেষ
ব্যবসায়ীর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধারের মামলায় বন্ধুর দায় স্বীকার হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ ফেলে পালানোর চেষ্টা, স্বামী আটক নারী কণ্ঠে ‘আকামা নবায়ন’ ফাঁদে ফেলতেন তারা আগামী বছর পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : পানিসম্পদমন্ত্রী ‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে জবি ছাত্রলীগের মিছিল ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, সিদ্ধান্ত শিগগিরই ড্রোন হামলার পর মিয়ানমারের মান্দালয়ে বিমানবন্দর বন্ধ রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ শনিবার ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে

দুই ছেলের মারামারি দেখে ‘স্ট্রোকে’ বাবার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 02:43:32 pm, Thursday, 10 September 2026
  • / 10 Time View

রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা ও টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।

পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। মরদেহ উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, মহির উদ্দিনের ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলাম। ছোট ছেলে রশিদুল নেশাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক দিন ধরে তাকে মুদি দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না বাবা মহির উদ্দিন ও বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল মুদি দোকানে উঠে টাকা নিতে যান। এ সময় তাকে টাকা নিতে বাধা দেন বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দোকানের সামনে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে গড়ায়। দুই ভাই পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, ওই সময় উপজেলা সদরবাজার থেকে মুদি মালামাল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন মহির উদ্দিন। সেখানে নেমে তিনি চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখতে পান। ছেলেদের এমন কাণ্ড দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান।

পরে বড় ছেলে মাইদুল ইসলাম ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মহির উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের বিষয়ে খোঁজ নেয়।

কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, চোখের সামনে দুই ছেলের মধ্যে মারামারির ঘটনা দেখে সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোকে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এর আগেও তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন।

মৃত মহিউদ্দিনের স্বজনরা জানান, মহির উদ্দিনের হৃদ্‌যন্ত্রেও সমস্যা ছিল। চিকিৎসক তাকে হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় তার হার্টে রিং পরানো সম্ভব হয়নি।

কাউনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘ছেলেদের মারামারি দেখে একজন ব্যক্তি মারা গেছেন। ছেলেদের এমন কাণ্ডে বাবার মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। মরদেহ এখনো উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে।’

ওসি আরো বলেন, মৃত মহির উদ্দিনের দুই স্ত্রী রয়েছেন। তার বড় স্ত্রীর ছেলে বাইরে থাকেন। তিনি আসার পর পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুই ছেলের মারামারি দেখে ‘স্ট্রোকে’ বাবার মৃত্যু

Update Time : 02:43:32 pm, Thursday, 10 September 2026

রংপুরের কাউনিয়ায় মুদি দোকানে বসা ও টাকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ হয়ে মহির উদ্দিন (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান তিনি।

পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। মরদেহ উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, মহির উদ্দিনের ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে মাইদুল ইসলাম ও রশিদুল ইসলাম। ছোট ছেলে রশিদুল নেশাগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক দিন ধরে তাকে মুদি দোকানে বসতে দিচ্ছিলেন না বাবা মহির উদ্দিন ও বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রশিদুল মুদি দোকানে উঠে টাকা নিতে যান। এ সময় তাকে টাকা নিতে বাধা দেন বড় ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দোকানের সামনে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে গড়ায়। দুই ভাই পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, ওই সময় উপজেলা সদরবাজার থেকে মুদি মালামাল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে আসেন মহির উদ্দিন। সেখানে নেমে তিনি চোখের সামনে দুই ছেলের মারামারি দেখতে পান। ছেলেদের এমন কাণ্ড দেখে তিনি অসুস্থ হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান।

পরে বড় ছেলে মাইদুল ইসলাম ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মহির উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের বিষয়ে খোঁজ নেয়।

কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, চোখের সামনে দুই ছেলের মধ্যে মারামারির ঘটনা দেখে সহ্য করতে না পেরে স্ট্রোকে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন। এর আগেও তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন।

মৃত মহিউদ্দিনের স্বজনরা জানান, মহির উদ্দিনের হৃদ্‌যন্ত্রেও সমস্যা ছিল। চিকিৎসক তাকে হার্টে রিং পরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় তার হার্টে রিং পরানো সম্ভব হয়নি।

কাউনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘ছেলেদের মারামারি দেখে একজন ব্যক্তি মারা গেছেন। ছেলেদের এমন কাণ্ডে বাবার মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। মরদেহ এখনো উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে।’

ওসি আরো বলেন, মৃত মহির উদ্দিনের দুই স্ত্রী রয়েছেন। তার বড় স্ত্রীর ছেলে বাইরে থাকেন। তিনি আসার পর পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে