Dhaka 12:32 am, Tuesday, 8 September 2026
সর্বশেষ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৩ ওয়াটার এটিএমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে জোর দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী ভোলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, ৬ ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ আটক ৪০ বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন নারীর হাতে পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাঞ্ছারামপুরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলসহ পাঁচ আইন কর্মকর্তার পদত্যাগ ৮ হাজার টাকার প্রলোভনে শিশুদের পেটে ইয়াবা, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাচার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬ দেশের কর্মীদের জন্য খুলছে ডেনমার্কের দুয়ার মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর আরচ্যারী ফেডারেশনের

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে : ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:33:36 pm, Monday, 7 September 2026
  • / 3 Time View

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, জাকাত দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিরা সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে পরিকল্পিতভাবে তা বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পারে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেসব নারী-পুরুষের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা ‘নিসাব’ রয়েছে, তাদের যথাযথভাবে জাকাত প্রদান করা উচিত এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জাকাতের অর্থ নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী সব নারী-পুরুষ সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে তা পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’

দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে জাকাতকে ব্যবহারের জন্য সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, বর্তমানে দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শহর, নগর ও গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার মাদ্রাসা ও এতিমখানা জাকাতের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

মন্ত্রী বলেন, তাই জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে। আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত একটি সংস্কার কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত সংস্কার কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।’

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজ করা এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চেকের মাধ্যমে তা দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশি-বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজতর করা এবং যথাযথ নিয়মে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চেকের মাধ্যমে দ্রুত তা বিতরণের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে এ প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি জাকাত ফান্ড এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে সরকারি জাকাত ফান্ড বিভাগ এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ও সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শক্তিশালী জাকাত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এর সুফল বয়ে আনবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দৃশ্যমান হবে।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনা দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে : ধর্মমন্ত্রী

Update Time : 04:33:36 pm, Monday, 7 September 2026

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, জাকাত দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিরা সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে পরিকল্পিতভাবে তা বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পারে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, যেসব নারী-পুরুষের নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা ‘নিসাব’ রয়েছে, তাদের যথাযথভাবে জাকাত প্রদান করা উচিত এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জাকাতের অর্থ নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী সব নারী-পুরুষ সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে তা পরিকল্পিতভাবে বিতরণ করা হলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’

দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার হিসেবে জাকাতকে ব্যবহারের জন্য সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, বর্তমানে দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শহর, নগর ও গ্রামাঞ্চলে হাজার হাজার মাদ্রাসা ও এতিমখানা জাকাতের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

মন্ত্রী বলেন, তাই জাকাত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে। আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত একটি সংস্কার কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মাদ্রাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত সংস্কার কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।’

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজ করা এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চেকের মাধ্যমে তা দ্রুত বিতরণ নিশ্চিত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশি-বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজতর করা এবং যথাযথ নিয়মে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চেকের মাধ্যমে দ্রুত তা বিতরণের ব্যবস্থা করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে এ প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি জাকাত ফান্ড এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে সরকারি জাকাত ফান্ড বিভাগ এবং সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ও সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শক্তিশালী জাকাত ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে এর সুফল বয়ে আনবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দৃশ্যমান হবে।’