Dhaka 5:47 pm, Monday, 7 September 2026
সর্বশেষ
নতুন দায়িত্বে মাহমুদা হাবিবা হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে আমিরাত, সমাধানের চেষ্টা চলছে বিতর্ক পেরিয়ে নতুন সিনেমায় ফিরছেন মৌসুমী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক পাঁচ দিনের রিমান্ডে আমিনবাজারে এসআই হত্যার নেপথ্যে কারা জানাল র‌্যাব রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী ১০০ শিক্ষক পাচ্ছেন ১ লাখ টাকা করে অনুদান চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির বাধা দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নতুন আলোচনার দরকার নেই

আমিনবাজারে এসআই হত্যার নেপথ্যে কারা জানাল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 10:42:09 am, Monday, 7 September 2026
  • / 1 Time View

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ ছিল। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং তারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ঘটনায় হামলাকারীরা ‘সবাই নেশাগ্রস্ত’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, ‘চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই আমরা বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র‍্যাব-৪ আরো চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফলে আমরা এজাহারনামীয় মোট ১৫ জনের মধ্যে র‍্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’ 

ঘটনার বিবরণে র‍্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেট কারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। 

র‌্যাব আরো জানায়, এরপর তারা আরো ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ আলতাফ হোসেন, উনি এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ এবং সঙ্গে একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একটা মানবিক কাজ মনে করেছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল। সেই ব্যক্তি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক, তখন মানবিকভাবে প্রথমে সেটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তিনি। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট এবং মাদকসংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের ওপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূল হোতা বলা যায়, তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

এ সময় র‍্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।’

এ ছাড়া কোনো সমস্যা হলে নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার কথায় এ ধরনের মানসিকতা মানুষের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানা থেকে রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মূল হোতা জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের এবং বাকি ৮ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো- সাভারের আমিন বাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), সামসুলের ছেলে আপন (৩০), সামসুলের ছেলে জিহাদ (২০), মৃত নজরুলের ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. বজলু শেখের ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৮), মৃত হালিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) এবং মো. জিন্নত আলীর ছেলে মো. ওয়াসিম (৪০)।

এদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আমিনবাজারে এসআই হত্যার নেপথ্যে কারা জানাল র‌্যাব

Update Time : 10:42:09 am, Monday, 7 September 2026

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ ছিল। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং তারা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ঘটনায় হামলাকারীরা ‘সবাই নেশাগ্রস্ত’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, ‘চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই আমরা বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র‍্যাব-৪ আরো চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফলে আমরা এজাহারনামীয় মোট ১৫ জনের মধ্যে র‍্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’ 

ঘটনার বিবরণে র‍্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেট কারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়। 

র‌্যাব আরো জানায়, এরপর তারা আরো ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ আলতাফ হোসেন, উনি এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ এবং সঙ্গে একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একটা মানবিক কাজ মনে করেছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল। সেই ব্যক্তি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক, তখন মানবিকভাবে প্রথমে সেটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তিনি। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, হামলাকারীদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট এবং মাদকসংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের ওপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূল হোতা বলা যায়, তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নেয়।

এ সময় র‍্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।’

এ ছাড়া কোনো সমস্যা হলে নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার কথায় এ ধরনের মানসিকতা মানুষের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতাসহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানা থেকে রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মূল হোতা জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের এবং বাকি ৮ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো- সাভারের আমিন বাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), সামসুলের ছেলে আপন (৩০), সামসুলের ছেলে জিহাদ (২০), মৃত নজরুলের ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. বজলু শেখের ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৮), মৃত হালিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) এবং মো. জিন্নত আলীর ছেলে মো. ওয়াসিম (৪০)।

এদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।