গুপ্তদের ভেতরে কি স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে?
- Update Time : 12:10:15 am, Sunday, 6 September 2026
- / 7 Time View
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনগণ কষ্ট পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল কেআইবি মিলনায়তনে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘কিছুদিন ধরে আমরা খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সব সমস্যাই আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই আমরা কখনো বলছি না; সমস্যা আছে।
অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এসব সমস্যাকে পুঁজি করে আমরা খেয়াল করছি যে কিছু রাজনৈতিক দল ও কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে একটি অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনাসভার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়াসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখব। যেসব গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতা আছে, আমরা চেষ্টা করব আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে সেগুলোকে আপহোল্ড করতে।
কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, অবশ্যই দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে কিভাবে অরাজকতাকে কন্ট্রোল করতে হয়। কাজেই সরকার হিসেবে এবং শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের দ্বারা একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকে প্রত্যেকের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের আমলে আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করেছিল। তারা স্বৈরাচারের ভেতরে গুপ্তভাবে লুকিয়েছিল। পরে আমরা দেখছি তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে নিজেরাই স্বীকার করেছে, বলেছে।
আমরা খেয়াল করছি বেশ কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা মাত্র আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম। এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে যে স্বৈরাচারকে বাংলাদেশের মানুষ এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, তারাও এই বিভ্রান্তির মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এমনও তো হতে পারে যে স্বৈরাচারের সময় যেসব গুপ্ত স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল, এখন কি সেই গুপ্তদের ভেতর স্বৈরাচার লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে কি?’
দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার জাতীয়তাবাদী শক্তির সব নেতাকর্মীকে আহবান জানাই, আসুন আমরা জনগণকে আরো সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দিই। কারণ এই যে গুপ্তবাহিনী, এরা একাত্তর সাল থেকে আমরা দেখেছি, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময়ে একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে, একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। সেটি একাত্তর সাল হোক, সেটি ছিয়াশি সাল হোক, সেটি ছিয়ানব্বই সাল হোক, সেটি গত এক যুগ হোক, সেটি বর্তমানে হোক না কেন, বিভিন্ন সময় তারা একজন আরেকজনকে আড়াল করে চলছে। আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে, জনগণকে পরিষ্কার করে দিতে।’
তিনি বলেন, ‘যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, যেটার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ অকাতরে জীবন দান করেছিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর আমরা দেখেছি মানুষ স্বাধীনতা লাভ করলেও গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি। বরং মানুষ দেখেছে কিভাবে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।’
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার অর্থনীতি, বিদেশে শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র, টেকসই গণতন্ত্র, নারী শিক্ষার উন্নয়ন, বিকাশমান অর্থনীতি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল ব্যবস্থা প্রভৃতি কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দেখেছি শুধু ভঙ্গুর অর্থনীতি নয়, ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা, ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা, ভঙ্গুর যোগাযোগব্যবস্থাসহ এই রকম বহুবিধ সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি। এই মুহূর্তে যদি বলতে হয়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কী সমস্যা? এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা আনফরচুনেটলি যেটা আমরা ইনহেরিট করেছি, সেটা হচ্ছে জ্বালানির সমস্যা। বাংলাদেশের বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুতে কষ্ট পাচ্ছে, জ্বালানির ক্ষেত্রে কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সেটা অস্বীকার করছি না।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিএনপি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার, সে জন্য বিএনপি একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হ্যাঁ, কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে একটি সময়ের প্রয়োজন, বাস্তবায়ন করার আরো কিছু সময় প্রয়োজন। কিন্তু বিএনপি সেভাবে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে যে ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং সমস্যা তৈরি হলে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, দেশের মানুষকে নিয়ে সেভাবেই বিএনপি তার কর্মপরিকল্পনা করেছে। আজকে বহু মানুষ, বহু শিল্প-কলকারখানার মালিকসহ সাধারণ বহু মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্টে বা জ্বালানির কষ্টে আছে, তাদের সবার কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব সাধারণ সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য দেন। আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।