Dhaka 1:48 am, Wednesday, 2 September 2026
সর্বশেষ
সংকট থেকে কেবল বিএনপিই দেশকে উদ্ধার করতে পারবে : অর্থমন্ত্রী যশোরে এক বাড়ি থেকে ৩ মরদেহ উদ্ধার পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে বাতিল হবে ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীনপ্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীন চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাহাজের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী আমলের জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল দিচ্ছে জনগণ আগস্টে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি যে ৭ ব্যাংকে হাসিনার শাসনে গুম-ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল : স্পিকার শুভশ্রীর বিয়ের আগের দিন পর্যন্ত কথা হয়েছে, তারপরই ব্লক : দেব হাতিরঝিল থেকে পিস্তলের ৪৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

প্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীনপ্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 04:22:27 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • / 4 Time View

প্রতিরক্ষা আইনে বড়সড় পরিবর্তন আনল চীন। এখন থেকে যুদ্ধ কিংবা বড় কোনো সংকটে শুধুমাত্র সেনার ওপর নির্ভরশীল থাকবে না চীন প্রশাসন।

প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা বা অন্যান্য জাতীয় সম্পদও ব্যবহার করতে পারবে সরকার। গত ২৮ আগস্ট প্রতিরক্ষা আইনে এই সংক্রান্ত সংশোধনী অনুমোদন করেছে চীনের সংসদ। ১ অক্টোবর থেকে যা কার্যকর হয়েছে। 

নতুন আইনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নাগরিকদের সম্পদ ব্যবহারেরই অনুমতির পাশাপাশি প্রয়োজনে তা বাজেয়াপ্ত করার যাবে।

কোনো নাগরিক যদি সেক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করে সেক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তথ্য অনুযায়ী, জানা যায়, ২০১০ সালের পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা আইনে এত বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। 

চীন জানিয়েছে, এই আইনের লক্ষ্য হলো কোনোরকম হুমকি এলে, দেশে যাতে দ্রুত যুদ্ধের সুইচ চালু করে দেওয়া যায়।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে প্রতিরক্ষার দিকে চালিত করা যায়। নতুন আইনে উন্নয়ন স্বার্থের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

নতুন আইনে আরো বলা হয়েছে, সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের পরিবহণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য ও শস্য সরবরাহ এবং প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এখানে সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার।

পাশাপাশি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।  

এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, চীনের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কিছু আইন দেশের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এর অর্থ হলো, বিদেশে গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতায় আসতে পারে।

চীনের এই নতুন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই আইন আসলে চীনের যুদ্ধের প্রস্তুতি। 

ব্রাসেলস-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এটা উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। রুশ-ইউক্রেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীনপ্রতিরক্ষা আইনে বড় বদল, যুদ্ধের প্রস্তুতিতে চীন

Update Time : 04:22:27 pm, Tuesday, 1 September 2026

প্রতিরক্ষা আইনে বড়সড় পরিবর্তন আনল চীন। এখন থেকে যুদ্ধ কিংবা বড় কোনো সংকটে শুধুমাত্র সেনার ওপর নির্ভরশীল থাকবে না চীন প্রশাসন।

প্রয়োজনে সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি সংস্থা বা অন্যান্য জাতীয় সম্পদও ব্যবহার করতে পারবে সরকার। গত ২৮ আগস্ট প্রতিরক্ষা আইনে এই সংক্রান্ত সংশোধনী অনুমোদন করেছে চীনের সংসদ। ১ অক্টোবর থেকে যা কার্যকর হয়েছে। 

নতুন আইনে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নাগরিকদের সম্পদ ব্যবহারেরই অনুমতির পাশাপাশি প্রয়োজনে তা বাজেয়াপ্ত করার যাবে।

কোনো নাগরিক যদি সেক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে বা ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করে সেক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের তথ্য অনুযায়ী, জানা যায়, ২০১০ সালের পর এই প্রথম প্রতিরক্ষা আইনে এত বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে ১৪টি অধ্যায় ও ৮২টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। 

চীন জানিয়েছে, এই আইনের লক্ষ্য হলো কোনোরকম হুমকি এলে, দেশে যাতে দ্রুত যুদ্ধের সুইচ চালু করে দেওয়া যায়।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে প্রতিরক্ষার দিকে চালিত করা যায়। নতুন আইনে উন্নয়ন স্বার্থের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

নতুন আইনে আরো বলা হয়েছে, সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের পরিবহণ, ডাক, টেলিযোগাযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য ও শস্য সরবরাহ এবং প্রকৌশলের মতো ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত থাকতে হবে। 

সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিটগুলোকে বিশেষ দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এখানে সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সরকার।

পাশাপাশি নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।  

এ ছাড়া জানা যাচ্ছে, চীনের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কিছু আইন দেশের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এর অর্থ হলো, বিদেশে গৃহীত পদক্ষেপও চীনা আইনের আওতায় আসতে পারে।

চীনের এই নতুন আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই আইন আসলে চীনের যুদ্ধের প্রস্তুতি। 

ব্রাসেলস-ভিত্তিক ‘সেন্টার ফর রাশিয়া ইউরোপ এশিয়া স্টাডিজ’-এর পরিচালক থেরেসা ফ্যালন নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এটা উপেক্ষা করা সত্যিই কঠিন। রুশ-ইউক্রেন, ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং।