Dhaka 8:55 am, Saturday, 5 September 2026

চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : 12:51:31 am, Saturday, 5 September 2026
  • / 4 Time View

পাঁচ গুণের বেশি রোগী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি ৭৫ জন

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা ২৪টি। গতকাল শুক্রবার  ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১২৬ জন রোগী।

শয্যাসংখ্যার চেয়েও পাঁচগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেশির ভাগ রোগীকে মেঝেতে ও বারান্দায় শয্যা পেতে সেবা নিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামালাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড। 

জানা গেছে, সাধারণত জুলাই থেকে এখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা শুরু হয়।

কয়েক বছর আগেও ভর্তি হওয়া প্রায় শতভাগ রোগীই ঢাকা ও গাজীপুর জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল ভর্তি হতো। স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের হার ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তিন-চার বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরে এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এরপর থেকে ময়মনসিংহে বসবাসকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়তে থাকে।

এখন প্রতিবছরই ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হয়। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। 

এই হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৫৮ জন রোগী। চলতি মৌসুমে মোট ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৬৬২ জন। গতকাল বিকেলে চিকিৎসাধীন রোগী ছিল ১২৬ জন।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। 

হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার রোগী ছাড়াও সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা থেকেও এখন নিয়মিত রোগী আসে এখানে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ রোগীই জটিল অবস্থায় ভর্তি হয়। মেঝেতে মশারি টানাতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া বারান্দায় স্থান পাওয়া রোগীদের বৃষ্টি থেকে বাঁচাও কঠিন হয়ে পড়ে।

রোগীর স্বজন আরিফ হাসান বলেন, চার দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁর বড় ভাই। চার দিনেও জোটেনি শয্যা। মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া অনেক অসুবিধার।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শয্যার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো একটু কঠিন। আমরা অচিরেই ডেঙ্গু ওয়ার্ড আরো বড় করার পরিকল্পনা করেছি।’

ময়মনসিংহ নগরের সানকিপাড়া, চরপাড়া, ব্রহ্মপল্লীসহ নগরের আরো কিছু এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকোনুজ্জামান সরকার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ দেওয়া এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ নিয়মিত করছে সিটি করপোরেশন। তবে সিটি করপোরেশনের সব চেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭৫ জন ভর্তি হচ্ছে। এর আগে গত আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে খালেদা বেগম নামের এক নারী মারা গেছেন। চট্টগ্রামে চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগী দুই হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মোট পাঁচজনের। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৭ জন চিকিৎসাধীন। অন্যরা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে। মোট ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে ভর্তি ছিল মোট এক হাজার ২০২ জন, যা মাসভিত্তিক হিসেবে চলতি বছর সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসের শুরুতে যেভাবে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে তাতে গত মাসের আক্রান্তের চেয়ে চলতি মাসে অনেক বেশি হতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

Update Time : 12:51:31 am, Saturday, 5 September 2026

পাঁচ গুণের বেশি রোগী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি ৭৫ জন

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে শয্যা ২৪টি। গতকাল শুক্রবার  ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১২৬ জন রোগী।

শয্যাসংখ্যার চেয়েও পাঁচগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেশির ভাগ রোগীকে মেঝেতে ও বারান্দায় শয্যা পেতে সেবা নিতে হচ্ছে। রোগীর চাপ সামালাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে বিশেষ ডেঙ্গু ওয়ার্ড। 

জানা গেছে, সাধারণত জুলাই থেকে এখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করা শুরু হয়।

কয়েক বছর আগেও ভর্তি হওয়া প্রায় শতভাগ রোগীই ঢাকা ও গাজীপুর জেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল ভর্তি হতো। স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের হার ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তিন-চার বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরে এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এরপর থেকে ময়মনসিংহে বসবাসকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়তে থাকে।

এখন প্রতিবছরই ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে হয়। জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। 

এই হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৫৮ জন রোগী। চলতি মৌসুমে মোট ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৬৬২ জন। গতকাল বিকেলে চিকিৎসাধীন রোগী ছিল ১২৬ জন।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। 

হাসপাতালটি এক হাজার শয্যার হলেও এখানে প্রতিদিন গড়ে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছয় জেলার রোগী ছাড়াও সুনামগঞ্জ, গাজীপুর, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা থেকেও এখন নিয়মিত রোগী আসে এখানে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ রোগীই জটিল অবস্থায় ভর্তি হয়। মেঝেতে মশারি টানাতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া বারান্দায় স্থান পাওয়া রোগীদের বৃষ্টি থেকে বাঁচাও কঠিন হয়ে পড়ে।

রোগীর স্বজন আরিফ হাসান বলেন, চার দিন ধরে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁর বড় ভাই। চার দিনেও জোটেনি শয্যা। মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া অনেক অসুবিধার।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। শয্যার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো একটু কঠিন। আমরা অচিরেই ডেঙ্গু ওয়ার্ড আরো বড় করার পরিকল্পনা করেছি।’

ময়মনসিংহ নগরের সানকিপাড়া, চরপাড়া, ব্রহ্মপল্লীসহ নগরের আরো কিছু এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকোনুজ্জামান সরকার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ দেওয়া এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ নিয়মিত করছে সিটি করপোরেশন। তবে সিটি করপোরেশনের সব চেষ্টার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭৫ জন ভর্তি হচ্ছে। এর আগে গত আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে খালেদা বেগম নামের এক নারী মারা গেছেন। চট্টগ্রামে চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগী দুই হাজার ১৮৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মোট পাঁচজনের। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৮৭ জন চিকিৎসাধীন। অন্যরা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে। মোট ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে ভর্তি ছিল মোট এক হাজার ২০২ জন, যা মাসভিত্তিক হিসেবে চলতি বছর সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি মাসের শুরুতে যেভাবে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে তাতে গত মাসের আক্রান্তের চেয়ে চলতি মাসে অনেক বেশি হতে পারে।